প্রতীক ও নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার একদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানায় দলটি। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধি দলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে আরো ছিলেন দলটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার।

বৈঠক শেষে হামিদুর রহমান আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আমাদের দলের নিবন্ধন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফিরিয়ে দিয়ে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করেছে। এটি প্রমাণ করে, বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদী আচরণ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের অধিকার হরণ করা হয়েছিল।’

নির্বাচন কমিশনের প্রতি দলটির আস্থা কতটুকু রয়েছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমরা এখনো মন্তব্য করছি না। আমরা আগেও বলেছি, আমরা নির্বাচন কমিশন, সরকার—সবকিছু অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করছি। যে জায়গায় তারা সঠিক কাজ করছে, সেখানে স্বীকৃতি দিচ্ছি। ব্যর্থ হলে অবশ্যই বলব। কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলব। যদি ব্যত্যয় ঘটে, সে জায়গায় কথা বলতে হবে। আমরা আশাবাদী, তারা ভবিষ্যতে জনআস্থাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে।’

বৈঠকের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে হয়, তাহলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হলে দলীয় প্রার্থীদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মেয়র বানাতে দলীয় প্রভাব কাজে লাগানো হয়। জনমতের প্রতিফলন হয় না। যেটি আমরা অতীতেও দেখেছি। এজন্য আমরা বারবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি।’