নারায়ণগঞ্জে চুরির অপবাদে প্রকাশ্যে এক যুবককে প্রায় নগ্ন করে লাঠি দিয়ে বেদম পিটিয়েছেন ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিছির আলী। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করেন তিনি। শুক্রবার রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় এক যুবককে পেটাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা মিছির আলী। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পেটানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে যুবকের বিরুদ্ধে সেলফোন চুরির চেষ্টার অভিযোগ তোলেন তিনি। এ সময় তার জামা খুলে লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করেন তিনি। তার এমন কাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কয়েকদিন আগে মিছির আলী হঠাৎ করে ইসদাইর বাজারসংলগ্ন রেললাইনের পাশে এসে এক যুবককে তার পকেট থেকে সেলফোন টান দেয়ার কথা বলেই মারধর শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় একজন তাকে থামাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন উপস্থিত অনেকে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, মিছির আলী ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, তাই বলে কি আইনের ঊর্ধ্বে? ওই যুবক যদি তার সেলফোন চুরির চেষ্টা করে থাকে তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দিতে পারতেন। তিনি তা না করে কীভাবে একজনকে মারধর করতে পারেন।’
এ ব্যাপারে মিছির আলী বলেন, ‘ঘটনাটি ১২-১৫ দিন আগের। তিনি ইসদাইর বাজার মসজিদে জোহরের নামাজ শেষ করে ভ্যানগাড়ি করে বিক্রি করছিলেন পেয়ারা। এ সময় তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে সেলফোন চুরি করে নিয়ে একটি লোক পালিয়ে যাচ্ছিল। আমি বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছেলেকে হাতেনাতে ধরে ফেলি এবং সেলফোনটি উদ্ধার করি। পরে তাকে সামান্য মারধর করে ছেড়ে দিই। কেউ হয়তো তখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিওটি করে রেখেছিল। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।’
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আযম বলেন, ‘এমন একটি ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিয়য়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’









