কক্সবাজারের উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাবেক মাঝি (নেতা) জাফর আলমকে এবার কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ভলান্টিয়ার নিয়ে ক্যাম্পে পাহারা দেয়ার সময় তার ওপর আক্রমণ চালানো হয়। ওই সময় ক্যাম্পে ফাঁকা গুলিও ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্যাম্পের এইচ/৫১ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফারুক আহমেদ গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত জাফর আলম মৃত বদিউর রহমানের ছেলে।
এএসপি ফারুক আহমেদ বলেন, রাত ৩টার দিকে ক্যাম্পের নিরাপত্তায় কাজ করা রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখে পরিচয় জানতে চান। এ সময় হঠাৎ তারা হামলা চালায়। স্বেচ্ছাসেবীদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান জাফর আলম। আহত হন আরো দুজন। তাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ক্যাম্পটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের এই মুখপাত্র।
ক্যাম্পে এর আগেও চলমান দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্লক মাঝি ও ক্যাম্প নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাই এপিবিএনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ক্যাম্প পাহারা দেন রোহিঙ্গা ভলান্টিয়াররা। তারাও এখন হামলার শিকার হচ্ছেন। গত দুদিন আগেও রোহিঙ্গা দোকানিকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আরেকজনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা।
উখিয়ার ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও মঙ্গলবার গভীর রাতে হামলা চালানো হয়। এ সময় গুলিতে আহত হন হালিম নামে এক রোহিঙ্গা যুবক। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আধিপত্য বিস্তার বা পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।










