স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ চার মাস। সে ক্ষেত্রে ওয়ান আফটার ওয়ান। যেমন এক মাস স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। এটা আমরা ভেবে দেখছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ চার মাসের জায়গায় ছয় মাস হতে পারে কিনা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য। তবে এ ব্যাপারে এখন আলোচনা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হওয়া উচিত এ বিষয়ে আমরা একমত।
সারোয়ার তুষার আরো বলেন, আস্থা ভোট, অর্থবিল এবং সংবিধান সংশোধনী এ তিনটি বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। সরকারের স্থিতিশীলতা এবং সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা এ দুটো জিনিসই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য সব ক্ষেত্রে যেকোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আজকে নতুন করে এসেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যদি আমরা বাদও রাখি, তাহলে তিনটি মূল বিষয় তার মধ্যে সংবিধান সংশোধনীর বিষয়টি আলোচনা এসেছে। তার মধ্যে বেশিরভাগ দলই এ ব্যাপারে বলেছেন যে সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত উচিত। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আরো কথাবার্তা বলতে হবে। দুটো ব্যাপারেই সবাই একমত হয়েছে।
দিনের দ্বিতীয়ার্ধের আলোচনা শেষে ফের সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, সংবিধান সংশোধনী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি নিজেদের মধ্যে কথা বলে প্রস্তাব জানাব। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি একটি অস্পষ্ট গ্রাউন্ড তৈরি করে। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সব দল ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে থাকবে। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি, এস্টিমেট কমিটি, পাবলিক আন্ডারটেকিং কমিটি, প্রিভিলেজ— এই চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে রাখার বিষয়ে সবার ঐকমত্য আছে। আমরা মনে করি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য বিরোধী দল থেকে রাখা হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হবে। বিরোধী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে স্থায়ী কমিটির পদটি বণ্টিত হতে পারে।
এ সময় তাসনিম জারা বলেন, জাতীয় সংসদে ২৫ শতাংশ নারী আসন রাখার পক্ষে আমরা একমত। তবে এই ১০০ জন নারী প্রতিনিধিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে; সিলেকশনের মাধ্যমে নয়। তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে আরো আলোচনা হতে পারে। যদিও কিন্তু ঐকমত্য কমিশন থেকে এ বিষয়ে ঘুর্ণায়মান পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।










