ষাটের কোটায় আরো এক ধাপ পার করলেন শাহরুখ খান। এর অর্ধেকটা কাটিয়েছেন অভিনয় করে। কখনো টেলিভিশনে, বেশির ভাগ সময় সিনেমার জন্য। এ ডিসেম্বরেই মুক্তি পাচ্ছে ‘কিং’। ‘জওয়ান’-এর পর আবার ধুন্ধুমার অ্যাকশন অবতারে হাজির হয়েছেন পাঠান। মজার ব্যাপার হলো বলিউডের ‘রোমান্সের ঈশ্বর’ বলে পরিচিত শাহরুখ সময়ের সঙ্গে নিজেকে বারবার বদলে নিয়েছেন।
আশির দশকের বলিউড কিছুটা ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছিল। একই ধারার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছিল প্রায় পুরো দশক। দর্শকের এসেছিল একঘেয়েমি। এদিকে স্যাটেলাইট টিভির যুগে প্রবেশ করেছে ভারত। সে সময় শাহরুখ খান প্রথমে টেলিভিশন ও পরে সিনেমায় আসেন। শুরুতে কিছুটা রোমান্টিক, কখনো অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় অভিনয় করলেন। জনপ্রিয়তা এসেছিল বড় পর্দায়। কিন্তু শাহরুখ বুঝেছিলেন নিজেকে এগিয়ে নিতে হলে ইন্ডাস্ট্রিকেও এগিয়ে নিতে হবে।
শাহরুখ খান বড়লোকদের বিয়েতে নাচেন, কথাটা এখনো বিদ্রূপ করে বলা হয়। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০০-এর প্রথম দশকে ভারতের বাইরে বিশেষ সব স্টেজ শোয় পারফর্ম করে ভারতের বাইরে বলিউডকে উপস্থাপন করেছেন শাহরুখ খান। কথিত আছে টম ক্রুজের চেয়েও বেশি মানুষ শাহরুখকে চেনে। নিজের পরিচিতি তিনি নিজেই তৈরি করেছিলেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রডাকশন হাউজ খুলেছেন। সেখান থেকে সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি ভিজুয়াল এফেক্টের কাজে গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতে রেড চিলিজই ভিএফএক্সের জন্য অন্যতম সেরা পছন্দ নির্মাতাদের।
শাহরুখ খানের হাত ধরে অনেকের অভিষেক হয়েছে। অনেক অভিনেতা, পরিচালক এমনকি প্রযোজককেও এগিয়ে নিয়েছেন শাহরুখ। দীপিকা পাড়ুকোন, আনুশকা শর্মার অভিষেক তার সিনেমায়। এমন নাম আরো আসবে। অন স্ক্রিনের চেয়ে অফ স্ক্রিনেও কাজ করেছেন শাহরুখ।
প্রতিনিয়ত নতুন নিরীক্ষা করেছেন। ‘রা ওয়ান’, ‘ফ্যান’-এর মতো আউট অব দ্য বক্স সিনেমা নির্মাণ করেছেন। ‘জিরো’র ব্যর্থতার পর সময় নিয়েছেন। ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝেছেন। তারপর হাজির হয়েছেন অ্যাকশন সিনেমায়। ২০২৩ সালে তাই একাই তিন সিনেমা দিয়ে বলিউডের বাজারকে চাঙ্গা করেছিলেন তিনি। সময় ও প্রচলিত ধারায় ভাসেননি কখনো শাহরুখ। নিজেকে বারবার বদলেছেন সময়ের চাহিদা অনুসারে। সে কারণেই হয়তো আজও বলিউডের সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক, প্রয়োজনীয় ও ভালোবাসার মানুষ শাহরুখ খান।










