আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জীবনের শেষ নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এমন কথা লেখেন। পোস্টে তিনি রাজনীতির মাঠে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এরপর লেখেন, ‘এ নির্বাচন হয়তো আমার শেষ নির্বাচন।’
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের সব নেতা-নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার পোস্টে। এছাড়া আজীবন সঙ্গে থাকার জন্য দলের সব কর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। যারা এবার মনোনয়ন পাননি, তাদের বিশ্বাস রাখতে বলেছেন দল তাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দেবে।
ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করেছেন মির্জা ফখরুল। জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাপে। পরে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন।
এ যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে গেছি, আমাদের নিজেদের একটা গল্প থাকে! অনেকেই তা জানে না! আমি যখন ১৯৮৭-তে সিদ্ধান্ত নিই, আবার রাজনীতিতে ফিরব, আমার মেয়ে দুটো একদমই ছোট ছিল! ঢাকায় পড়ত। আমার স্ত্রীর বয়স অনেক কম ছিল! সে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল! বুঝতে পারছিল কী ভয়াবহ অনিশ্চিত জীবনে পা দিতে যাচ্ছি!’
স্ত্রীর প্রসঙ্গে তিনি আরো লেখেন, ‘আমার মেয়ে দুটোর হাত ধরে সেই নিয়ে গেছে স্কুলে, ডাক্তারের কাছে! মনে পড়ে, আমার বড় মেয়ের একটা অপারেশন হবে, আমি সারা রাত গাড়িতে ছিলাম, ঢাকার পথে! যাতে মেয়ের পাশে থাকতে পারি!’
এরপর ফখরুল লিখেছেন, ‘গল্পগুলো অন্য কোনো দিন বলব যদি আল্লাহ চান! এ রকম গল্প আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর আছে!’
তিনি আরো লেখেন, ‘আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমাদের দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য দোয়া করবেন! আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব এবং কাজ করব!’
নিজ দলকে নিয়ে তার আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব লেখেন, ‘বিএনপির সেই যোগ্যতা আছে দেশকে মর্যাদার সঙ্গে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার! ইনশা আল্লাহ! আপনারা পাশে থেকেন।’









