নাটোরে করোনা রোগীদের নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠছে পুলিশের অক্সিজেন ব্যাংক। অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজন হলে পুলিশের হটলাইনে ফোন দিলেই ১০ মিনিটের মধ্যে বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে তারা। অক্সিজেন ব্যাংক উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনেই শতাধিক রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছে তারা।

মহামারী ও সংকটের কারণে অক্সিজেন ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেন জেলার পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। গত ২৩ জুন শহরের বড় হরিশপুর এলাকায় জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে ৫১টি সিলিন্ডার নিয়ে অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল বাতেন। এ সময় একটি হটলাইন চালু করা হয়। এ হটলাইনে কল করলেই হাসপাতাল কিংবা বাসায় অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে নাটোর জেলা পুলিশ। অক্সিজেন সরবরাহ ও রোগী বহনের জন্য পুলিশ লাইন্সে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সসহ চারটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ৫১টি সিলিন্ডার নিয়ে অক্সিজেন ব্যাংকের কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চাহিদা বাড়লে বাড়ানো হয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা। বর্তমানে ছোট-বড় মিলে মোট ১৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে জেলা পুলিশের অক্সিজেন ব্যাংকে।

শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বর্তমানে ৩২টি সিলিন্ডার দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেন সরবরাহ করছে জেলা পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান বলেন, করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফোন কলের পরিমাণও বাড়ছে। উদ্বোধনের পর দিনে চার-পাঁচটি কল আসত। কিন্তু বর্তমানে হটলাইনে ১৫-২০টি করে কল আসছে। এছাড়া পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশ কন্টোল রুমে ফোন করেও অনেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এ অক্সিজেন ব্যাংক থেকে শতাধিক মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ অক্সিজেন ব্যাংকের সেবা গ্রহণকারী শহরের কানাইখালী মহল্লার রাসেদুল ইসলাম রাসু জানান, নাটোরে পুলিশের এ অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা না হলে আমার বাবা-মা অক্সিজেনের অভাবে হয়তো দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতেন। আমার বাবা-মার শ্বাসকষ্ট দেখে পরিবারের সবাই যখন দিশেহারা হয়ে পড়ি, তখনই নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাকে কল দিলে গভীর রাতে অক্সিজেন নিয়ে আমার ও আমার পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি। এরপর অক্সিজেনের জন্য যখনই ফোন করেছি, ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ সদস্যরা অক্সিজেন নিয়ে আমার বাসায় হাজির হয়েছেন। পুলিশের এটি একটি মহতী উদ্যোগ।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, অক্সিজেনের অভাবে অনেকেই মারা যায়। এটা আমাদের পীড়া দেয়। অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হয় এ চিন্তা থেকেই নাটোরে পুলিশ অক্সিজেন ব্যাংকের যাত্রা। রোগীর অবস্থান যদি নাটোর শহরে হয়, তাহলে ১০ মিনিটের মধ্যে তার কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। পৌর শহরের বাইরে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

তিনি আরো বলেন, করোনা রোগীতে এখন হাসপাতাল ভর্তি। সেখানেও জেলা পুলিশ মোট ৩২টি সিলিন্ডার দিয়ে হাসপাতালের রোগীদের সেবা দিচ্ছে। বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু আছে। এছাড়া রোগী পরিবহনেও দুটি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।