বৈশ্বিক সংকটে সৃষ্ট হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ও আগামীতে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি ঘটতে জ্বালানি নিরাপত্তার বিকল্প নেই। তাই সরকার একটি আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। আজ রোববার দুপুরে পরিকল্পনা কমিশনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবেলায় একটি আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি গ্রহণ করতে কাজ করছে। আগে এ খাতে যে লুটপাট হয়েছে সেগুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, অপচয় ও অতি ব্যয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার শুরু করেছে। চলমান ১ হাজার ১৩৫টি ও নতুন ১ হাজার ২৭০টি প্রকল্প মিলিয়ে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রকল্প পর্যালোচনা করে সেগুলোকে সরকারের অগ্রাধিকার, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ হাজার ৩৩৩টি চলমান প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ১৫০টি আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২৭০টি প্রকল্পকে ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে জুনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি মানেই এক ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি। অনেক ক্ষেত্রে এটি অপচয়ও। তাই কেন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে আইএমইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যেসব প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি, সেগুলো বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক প্রকল্পের পরিধি পুনর্নির্ধারণ ও পুনর্গঠনও করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতিবিদদের নিয়ে সরকার একটি পঞ্চবার্ষিকী কৌশলপত্র প্রণয়নে করছে। এটি সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ প্রণয়ন করছে। আগামী জুলাইয়ে এটি বাস্তবায়ন হবে। এটি একটি সময়পোযোগী দলিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই যুক্ত হয়েছে এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো অনেক সময় কার্যকর দলিল হিসেবে কাজ করেনি। এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এটি একটি ‘জীবন্ত দলিল’ হবে, যা সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও হালনাগাদ করা যাবে।

পিডি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর দাবি করে তিনি আরো বলেন, এখন থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে পিডি পুল গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বে পিডি রাখা হবে না। পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেয়া হবে। প্রকল্পের শুরু থেকে নিয়োগ দেয়া হবে।

এ সময় সাংবাদিকদের কাছে সঠিক তথ্য উপাত্তের জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আরো সংগঠিত ও পরিমার্জিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।