সরকারের উচ্চ মাত্রায় ব্যাংক ঋণ দেশের অর্থনীতিকে চেপে ধরেছে বলে মনে করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের অপর্যাপ্ততা, সরকারি ব্যয় সংকুলানে ব্যর্থতা, এডিপি বাস্তবায়নে শ্লথগতি, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের উচ্চ মাত্রায় ঋণ দেশের অর্থনীতিকে চেপে ধরেছে।’

গুলশানে গতকাল আয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সংলাপের শুরুতে এ কথা বলেন তিনি। সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপের শুরুতে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, রফতানি আয়ে ধীরগতি, রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্থরতা, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতার মতো সমস্যাগুলোর দ্রুত অবসান করতে হবে। অর্থনীতিতে গতি আনতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবক্ষয়, আমদানিতে ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা, টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

সামাজিক খাত পুনর্গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, শ্রমবাজারের চাহিদা ও দক্ষতার অসামঞ্জস্য দূর করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষা খাত পুনর্গঠনের সঙ্গে কর্মসংস্থান, বিশেষত যুব কর্মসংস্থানের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে।’ সংলাপে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নবগঠিত সরকারের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য একটি আলাদা প্লাটফর্ম তৈরির কথা বলছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা এবং ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য অভ্যুত্থানকারী ছাত্রদের আলাদা একটি প্লাটফর্ম দরকার। যারা ওয়াচডগ হিসেবে ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরিতে কাজ করবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সমাজের নানা শ্রেণীর বঞ্চিত মানুষ ছাত্রদের এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। এখন আন্দোলনের মূল দাবি বাস্তবায়নে ছাত্র নাগরিকের আলাদা একটি প্লাটফর্ম থাকা উচিত। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে।’

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার সংস্কার কার্যক্রম যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য প্লাটফর্ম থাকতে হবে।’ দেশের ব্যাংক পরিচালকদের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা শামস মাহমুদ। 

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘সরকারের গোয়েন্দা বিভাগও সংস্কার করতে হবে।’ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর বলেন, ‘এখন ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনে সরকারি চাকরির বেতন কমাতে হবে।’ বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সেনা হেফাজতে কারা রয়েছে, তাদের নাম জানা দরকার।’  সাবেক অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সাংবিধানিক কাঠামোয় স্বৈরাচার তৈরির উপাদান রয়েছে।’ সংবিধান সংস্কারে প্রয়োজনে আলাদা কমিশন গঠনের পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ।