করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর একালার ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ ১৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তারা বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে ৩ জন চিকিৎসকসহ আক্রান্ত হলেন ১৬ জন।

আজ বুধবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়। তিনি এখন আইসোলেশনে আছেন বলেও জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক কয়েকদিন আগে প্রথমে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হন। পরে গাইনি বিভাগের এক চিকিৎসক আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। আক্রান্ত হন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) ছিদ্দিকুর রহমানও। এরপর ওই হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনায় ১৩ জনের করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় বলেন, হাসপাতালের স্টাফসহ নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে তিনজন আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। আমিও পজেটিভ, বর্তমানে আইসোলেশনে আছি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকেও জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ ১৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় এখানে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবে কিনা, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যতোক্ষণ আমরা বেঁচে আছি, কাজ চলবে। করোনার চিকিৎসকদের টিম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজেরসহ সবার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গত এপ্রিল থেকে এই হাসপাতালটিকে ১০টি আইসিইউ (বেড) সুবিধাসম্পন্ন ৫০ শয্যার করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে তিন জন রোগী ভর্তি আছেন।

হাসপাতালটিতে ফ্লু কর্নার ও ৪০ বেডের আইসোলেশন প্রস্তুত হলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি এসে না পৌঁছায় ১০ বেডের আইসিইউ এখনো প্রস্তুত হয়নি। যার কারণে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন তিন শিফটে ৯ জন চিকিৎসক, ১৮ জন নার্স ও ৬ জন ওয়ার্ডবয় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।