ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত হাদিকে দেখতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা মেডিকেলের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে খুবই কষ্ট নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা, তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদি, যিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী, তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা যারা গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, আমাদের জুলাই যোদ্ধারা, আহত-শহীদ পরিবারের সদস্যরা সবাই এখন হুমকির মুখে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বাংলাদেশে সংকট তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট, পতিত আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সিকিউরিটি থ্রেট। আমরা শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের সঙ্গে আছি। উনার জুলাইয়ের যে স্পিরিট সেটি আমরা প্রত্যেকে ধারণ করি। আমাদের দল-মত ভিন্ন হতে পারে, ব্যানার ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু জুলাইয়ের প্রশ্নে, বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা জুলাই বিপ্লবী-ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি ঐক্যের ডাক দিচ্ছি। এ ষড়যন্ত্র-হামলার পেছনে, এই গুলির পেছনে যারা দোষী তাদের অবশ্যই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।’

এনসিপির আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘আমরা আজ রাত থেকেই মাঠে থাকব এবং যেখানে ফ্যাসিবাদীদের ষড়যন্ত্র দেখব, আমরা তা প্রতিহত করব।’

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু হাদির নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছে তাদের প্রত্যেকেই নিরাপত্তা সংকটে আছে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, দ্রুত বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। এবং আমরা যারা গণ-অভ্যুত্থানে ছিলাম, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

জননিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার সব সময় দুর্বল ভূমিকা নিয়েছে মন্তব্য করে নাহিদ আরো বলেন, ‘সরকারকে বলব, এটা আমরা শেষ সুযোগ দিচ্ছি। যদি এ সরকার, এ নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা দিতে না পারে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারে, আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূলের ব্যবস্থা করতে না পারে, তাহলে এ সরকারের বিরুদ্ধেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’