চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর উপজেলায় হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে বড় উঠান ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহমীরপুর এলাকায় হাতির আক্রমণে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. আকবর (৪২)। এ নিয়ে গত দেড় মাসে হাতির আক্রমণে কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় সর্বমোট চারজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।

বড় উঠান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাছির মিয়া জানান, রাত ৪টার দিকে হাতির দলটি স্থানীয় একটি মুদি দোকানে হামলা করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির মালামাল রক্ষা করতে আকবর ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাতির দলটি আকবরকে পা দিয়ে পিষ্ট করে মেরে ফেলে। দলে ৪টি হাতি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে মানববন্ধন করে হাতির আক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুরে হাতির আক্রমণে কৃষক মোহাম্মদ সৈয়দ ওরফে লুতু মিয়ার (৫৫) মৃত্যু হয়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মো. কাশেম ওরফে দুলাল (৬০) ও রেহানা বেগম (৩৮) হাতির আক্রমণে মারা যান। মূলত দুটি উপজেলার মধ্যবর্তী পাহাড় থেকে হাতির দল প্রায়শই চলাচল করার সময় এলাকার মানুষ হাতির আক্রমণের কবলে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।

গত ছয় বছর ধরে চট্টগ্রামের দেয়াং পাহাড়, হ্রদ ও বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চলে বিচরণ করছে হাতির দলটি। তাদের হামলায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, যাচ্ছে মানুষের প্রাণ। কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নজুড়ে তাদের বিচরণ। সেপ্টেম্বর মাসে হাতির আক্রমণে তিনজন মারা যাওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় লোকালয় পাহারায় স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি হাতি চলাচলের করিডোর ‘নিরাপদ রাখা’ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটিও করার সিদ্ধান্ত হয় জেলা প্রশাসনের সভাপতিত্বে হওয়া ওই সভায়। এর আগে হাতিগুলো সরিয়ে নিতে একাধিকবার বন বিভাগে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যদিও বন বিভাগ বিভিন্ন সময়ে হাতির আক্রমণে আহত, নিহত কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে যাচ্ছে।