আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত যুবশক্তির জাতীয় যুব সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, জুলাই সনদের ক্ষেত্রে সরকারকে এক বিন্দুও ছাড় দেবেন না তারা।

এনসিপির যুব সংগঠনটির এ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও বক্তব্য দেন। তাদেরই উপস্থিতিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ইলেকশনের ডেট ঘোষণা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না।’

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, আমার যে ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিল, রক্ত দিয়েছিল সংস্কারের জন্য, একটি নতুন সংবিধানের জন্য; তাহলে কবরে গিয়ে তার লাশটা ফেরত দিতে হবে এ সরকারকে। আমার যে ভাইয়ের হাতটা চলে গিয়েছিল, যদি সংস্কারকাজ শেষ না করে নির্বাচন হয়, তাহলে এ সরকারকে আমার ভাইয়ের হাতটা ফিরিয়ে দিতে হবে; যে মায়ের বুক খালি হয়েছিল, ওই মায়ের বুকের সন্তানকে ফেরত দিতে হবে।’

গত বছরের জুলাই-আগস্টের হতাহতদের পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘অনেক বাচ্চাকে দেখেছি, এখনো বুকের দুধ পান করে কিন্তু বাবা শহীদ হয়েছে। তাদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি। তাদের মুখে কোনো ভাষা পাইনি, শুধু চোখের ভাষা পেয়েছি। যে চোখের ভাষা ছিল অশ্রু।’

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একই সংস্কৃতির ডামাডোলে, একই ফ্যাসিবাদী সংবিধানে একই সিস্টেমের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। তাহলে এতগুলো মানুষ শহীদ হওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? এতগুলো মানুষ আহত হওয়ার প্রয়োজন কী ছিল?’

জুলাই সনদের ক্ষেত্রে সরকারকে এক বিন্দুও ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত এক বছর ছাড় দিয়েছি। জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাড় দিয়েছি। জুলাই সনদে কোনো ছাড় হবে না। এক পার্সেন্ট ছাড়ও জুলাই সনদে দেয়া হবে না। যে মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা জনগণের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। যে নতুন বন্দোবস্তের কথা আমরা বলেছি। সেটিতে গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে, স্বৈরাচার আর ফিরে আসতে পারবে না। রাষ্ট্র কাঠামোকে গণতান্ত্রিক হিসেবে গড়ে তুলব। সে জুলাই সনদে আমরা এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না।’

২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রজন্মকে প্রতারিত করতে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাহাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে কীভাবে লুটপাট হয়েছে। কীভাবে রক্ষী বাহিনী তৈরি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে প্রতিশ্রুতি ছাত্রসমাজকে দেয়া হয়েছিল, সেটা রক্ষা করা হয়নি।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচন, ভোটাধিকারের জন্য আমাদের লড়াই ছিল। কিন্তু আমরা এও বলেছি, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হবে। বাংলাদেশের এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা। যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে না পারে। দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে নিজেদের মধ্যে ছাড় দেয়ার মানসিকতা তৈরি না হয়। তাহলে আরেকটি ১/১১ আসবে। কারণ আমরা ইতিহাসে এটাই দেখেছি।’

যুব সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম।