শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশের মধ্যে উসকানি দিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। মুক্তিপাগল মানুষ এসব সহ্য করবে না। উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে যতগুলো ঘটনা ঘটবে এর দায়ভার উসকানিদাতাকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দেশের যত টাকা চুরি-ডাকাতি-লুট করে বিদেশে পাচার করেছে তা অন্তর্বর্তী সরকারকে ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার করার দাবি জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, খুনিদের আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যকর করে এবং দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীরা ঘরে বাইরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মর্যাদায় কাজ করতে পারবে। শিক্ষা ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে আগে শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে হাত দেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিকের সব অধিকার পাওয়ার অধিকার আছে। এটাই মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা। আমাদের এ সমাজ হবে বৈষম্যহীন। আওয়ামী লীগ দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ পুরোদমে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ এতদিন অনেক কষ্টে ছিল। এ নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের রাজধানী বানিয়ে রাখা হয়েছিল। আমাদের তৎকালীন জামায়াতের আমির ছিলেন গোলাম আযম। তার বিরুদ্ধে এ শহরের এক গডফাদার নারায়ণগঞ্জের সড়কে ৭২ ফিট লম্বা ব্যানার টানিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল, নারায়ণগঞ্জে ওমুকের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ডিসি, এসপির উপস্থিতিতে গডফাদার শামীম ওসমান বলেছিলেন, আমার বিরুদ্ধে খুনের অগ্রিম মামলা করে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে গোলাম আযম সাহেব মারা যান। গডফাদারের সুযোগ হয় নাই? আজ তিনি কোথায়? নারায়ণগঞ্জে নেই? এত অহংকার ভালো না। দাম্ভিকতা ভালো না। সন্ত্রাসকে কখনো প্রশ্রয় দিতে হয় না। তাহলে দুনিয়াতেই তার করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়। এ ছাড়া আখিরাতে তাকে শূলে চড়ানো হবে। যেটা হবে আগুনের মহাকুণ্ড। তাই বলি, তওবা করেন। মানুষের মতো মানুষ হোন।’

তিনি বলেন, ‘গত ৫৪ বছর এ জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল। আর সুকৌশলে এই বিভক্তি সৃষ্টি আওয়ামী লীগ করেছিল। তারা বিভক্তির শুরু করেন পাহাড়িদের নিয়ে। তারা ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা সবাই বাঙালি। কিন্তু এটা নিয়ে পাহাড়িরা প্রতিবাদ করেন। তখন থেকে এই যে বিভক্তি শুরু হয়েছে তা এখনো চলমান রয়েছে। এখনো ওইখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় নাই। তারা এখন বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। এ বিভক্তি যতদিন থাকবে ততদিন এই জাতির মধ্যে একতা সৃষ্টি হবে না। যা দেশের মানুষ গত ৫৩ বছর প্রত্যক্ষ করেছেন।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা অঞ্চল দক্ষিণের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।