টেকনাফে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশ থেকে বহিস্কৃত ৭ সদস্যকে দুই ধারায় ৭ ও ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোজাম্মদ ইসমাঈল এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম। রায় ঘোষণাকালে সব আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিদারুল মোস্তফা জানান, ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় ৭ আসামীর প্রত্যেককে ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং দণ্ডবিধি ৩৮৬ ধারায় ৭ বছর করে কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার।
টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গফুরের স্বজনেরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাচৌকির কর্মকর্তাকে জানান।
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের মাইক্রোবাসে চৌকির সেনাসদস্যরা তল্লাশি করে তাতে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বাদী ব্যবসায়ী আবদুল গফুরের ভাই টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বলেন, এই ঘটনায় মামলা দায়ের করায় আমাদের পরিবার ব্যাপকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আসামীরা তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি সিনহা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে যোগসাজস করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করেছে। এসব নির্যাতনে বাদি আবদূর গফুর মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে সে কারনে তিনি আদালতে পর্যন্ত আসতে পারেননি।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের পর ডিবির সাত সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি ডিবির সাত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশও করে। বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমটি এখনো চলমান রয়েছে।










