নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে অবশেষে ‘শাপলা কলি’ নিতে সম্মত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সেই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারুণ্যনির্ভর দলটি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
দলীয় প্রতীকের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে আমরা শাপলা, সাদা শাপলা কিংবা শাপলা কলি—তিনটি প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছিলাম। বৃহত্তর স্বার্থে আমরা শাপলা কলি নিচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রতীকটির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। দেশবাসীর মধ্যেও শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ ও শাপলা কলির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’র দাবিতে অনড় ছিল এনসিপি। তবে গত ৩০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করলে দলটির নেতারা শাপলাকে দলীয় প্রতীক হিসেবে পাওয়ার দাবিতে আপসহীন থাকার ঘোষণা দেন। সেই অনড় অবস্থান থেকে অবশেষে গতকাল সরে এসে নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে দলটি।
এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা যতটুকু চিন্তা করি নির্বাচন কমিশন তার এক ধাপ অগ্রসর চিন্তা করে। তারা শাপলা কলি অন্তর্ভুক্ত করেছে। পরে আমরা এটা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি এবং তাদের আমরা আহ্বান জানিয়েছি দ্রুতগতিতে এনসিপির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত আমরা মাঠে প্রতীক নিয়ে যেতে পারি।’
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা করেছে এনসিপি। এ ব্যাপারে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘৩০০ আসনেই আমাদের প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়ে আমাদের অফিসে এলে সেটা বিবেচনা করা হবে।’
এর আগে গতকাল বেলা ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পলিসি ও রিসার্চ লিড খালেদ সাইফুল্লাহ; যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা।









