বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসির) বাফার গুদামে ঢুকতে না দেয়া ৭০ টন (পাঁচ ট্রাক) ভেজাল টিএসপি সার দেয়ার অভিযোগে ও ৭৩ টন সার আত্মসাতের অভিযোগে রোববার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় দুই ডিলারের নামে মামলা করেছেন চট্টগ্রাম টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের
উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ সোলায়মান। মামলা নাম্বার ৮৬/৩৪৪।
অভিযুক্তরা হলেন চট্টগ্রামের মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের মালিক আহসান হাবিব ও একই জেলার সন্দ্বীপ থানার ইব্রাহিম হায়দার। মামলায় প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করতে বলা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, যশোর বাফার গুদামে পরিবহনের জন্য মেসার্স সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে মোট ২৪১ টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়, যা গত ১৪ ও ১৫ মার্চ তারা ১৭টি ট্রাকযোগে নিয়ে যায়। এর মধ্যে পাঁচটি ট্রাকযোগে ১৭ মার্চ যশোর বাফার গুদামে ৭০ টন সার আনলে গুদাম ইনচার্জ আক্তারুল ইসলাম সারে ভেজাল সন্দেহে সেগুলো বাইরে আটকে রাখে। পরে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি সারের ছয়টি নমুনা নিয়ে টিএসপির ল্যাবে পরীক্ষা করা হলে সব সারেই ভেজাল পাওয়া যায়। তদন্ত কমিটি গত ২৪ মার্চ তদন্ত রিপোর্ট টিএসপির এমডির কাছে জমা দেন। সেখানে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
যশোরে গুদামের ইনচার্জ আক্তারুল ইসলাম জানান, ১৭ মার্চ ওই সার যশোর গুদামে এসে পৌঁছে। সৈয়দ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি সার কারখানা থেকে পাঁচটি ট্রাকে করে ৭০ টন সার গত ১৫ মার্চ রাতে যশোর সদরের বাহাদুরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত বাফার গুদামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
এ সময় ট্রাকবোঝাই সার দেখে তার সন্দেহ হলে তিনি খালাস বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্দেহের বিষয়টি অবহিত করেন এবং ওই দিনই টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডে লিখিত আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রাকসহ সারগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেয়। সারবোঝাই ট্রাকগুলো হলো—ঢাকা মেট্রো-ট-১৫-০১৩৬, ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-০৬২১, ঝিনাইদহ-ট-১১-১৩৪৮, ঝিনাইদহ-ট-১১-০৯১৬, ঝিনাইদহ-ট-১১-০৯৮২।
২১ মার্চ টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি যশোরে এসে জব্দ করা সারের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের সার কারখানার পরীক্ষাগারে নিয়ে যান। তিন সদস্যর তদন্ত কমিটির টিএসপির উপপ্রধান রসায়নবিদ রেজাউল ইসলামকে প্রধান করা হয়েছে।
অন্য দুজন হলেন উপপ্রধান হিসাবরক্ষক নির্মল কুমার দত্ত ও ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) শফিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ সোলায়মান জানান, ডিলাররা সারে ভেজাল দিয়ে ও আত্মসাৎ করে বিসিআইসির সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ করা সারের মূল্য বাবদ ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায়ের মামলা করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, টিএসপি থেকে সারে ভেজাল ও সার আত্মসাৎ নিয়ে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করতে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।









