২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪ জন শ্রমিক নিহত ও ৫৮ জন শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে ৩০টি ছিল মারাত্মক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ভারী লোহার কাজ, কাটিং ও লোডিং কার্যক্রমের সময় ঘটেছে, যা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ হোটেল সেন্ট মার্টিনে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের বার্ষিক শ্রমিক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিনের বেলায় ২৯টি (প্রায় ৬০ শতাংশ) এবং রাতে ১৯টি (প্রায় ৪০ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে। দিনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ছিল ভারী লোহার কাজ, কাটিং ও লোডিং কার্যক্রম। রাতের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আলো স্বল্পতা, শ্রমিকদের অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবকে দায়ী করা হয়। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল মারাত্মক প্রকৃতির।
এসব ঘটনায় হাত-পা কাটা বা থেঁতলে যাওয়া, হাড় ভাঙা, মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত, আগুন ও বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া এবং স্থায়ী অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরনে ভারী লোহা বা গার্ডার পড়ে আঘাতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি (৩৫ শতাংশ), এরপর আগুন ও গ্যাস বিস্ফোরণ (২০ শতাংশ)। দুর্ঘটনার ৭০ শতাংশের বেশি ঘটেছে কাটার হেলপার, কাটারম্যান, ফিটারম্যান ও ওয়্যার গ্রুপের শ্রমিকদের মধ্যে।
এ সময় উপস্থিত বক্তারা বলেন, অধিকাংশ ইয়ার্ডে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ কাটিং, গ্যাস লাইনের ত্রুটি এবং রাতের কাজে পর্যাপ্ত আলো ও সুপারভিশনের অভাব রয়েছে।
শ্রম আইন ও জাহাজভাঙা বিধিমালা অনুযায়ী চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়। এ অবস্থায় লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদার নিয়োগ বন্ধ, রাতের কাজ নিষিদ্ধ, বিশেষায়িত হাসপাতাল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসা টিম, ন্যূনতম ৩৬ হাজার টাকা মজুরি এবং উচ্চতায় কাজের সময় বাধ্যতামূলক সেফটি বেল্ট ও হেলমেট ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত, বিলসের চট্টগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু, ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন, শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক রোমানা আক্তার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক কুলসুম আক্তার সোমা, ইপসা’র কো-অর্ডিনেটর মো. আলী শাহীন, বিএমএসএফ নেতা নুরুল আবসারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।









