আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে নির্বাচন ঘিরে দুষ্টচক্র থেমে নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আজ মঙ্গলবার বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আমরা এ পর্যন্ত যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আছে, তাতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো না ঘটলে আরো ভালো হতো। অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ অস্ত্রের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আমাদের ধারণা নির্বাচনে অপব্যবহার করার জন্য আনা হয়েছিল।…আজকেও কুমিল্লায় একটা জায়গা থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল এখানে মিসইউজ করার। কদিন আগে ঢাকা শহরের একাধিক জায়গা থেকে পাওয়া গেল, যশোর, ফরিদপুর থেকে (অস্ত্র) পাওয়া গেল। সুতরাং দুষ্টচক্র যারা নির্বাচনী সহিংসতা ঘটাতে চায়, তারা তো থেমে নেই।
নির্বাচন কমিশন এসব ব্যাপারে সচেতন আছে উল্লেখ করে ইসি বলেন, যে কারণে আপনারা হয়তো দেখতে পাচ্ছেন সহিংসতা সেই পর্যায়ে ছড়াতে পারেনি। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাধুবাদ জানাতে পারি এখন পর্যন্ত তারা যা যা করেছে তার জন্য। তারা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে নির্বাচন এবং পরবর্তী সময় আইন-শৃঙ্খলা মেনটেইন করতে পারবে বলে আমরা আশা করি।
নির্বাচনকে ঘিরে ৫০ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, এসব কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল আছে। এ সেলগুলো সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ফোর্স প্রিপজিশনিং, ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান করে থাকে। ন্যূনতম একটা ভোটকেন্দ্রে ১৫ জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। সংবেদনশীলতা বিবেচনায় কোনো জায়গায় এ সংখ্যাটা বাড়বে, আবার কোনো জায়গায় গ্রুপিং করে আরেকটা ফোর্সকে ডেপ্লয় করা থাকবে।
ভোটকেন্দ্রে যদি সহিংসতা হয়, তাহলে ভোটিং কন্টিনিউ করবেন নাকি বন্ধ করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিনা কারণে অনেক সময় গ্যাঞ্জাম লেগে থাকে, লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুজন মিলে ঝগড়াঝাটি লাগালো, সেখান থেকে এটার সঙ্গে আরো চারজন উৎসাহী মানুষ যোগ দিল। আমাদের বাস্তবতা তো এটা। হয়তো টেম্পোরারি বন্ধ করল বা হয়তো আরেকটু বড় আকারের হলো, তখন টেম্পোরারি বন্ধ করে সিচুয়েশন নিয়ন্ত্রণে এনে আবার ভোট শুরু হবে। আর যেখানে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না, তখন নেক্সট স্টেজের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করছি এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।













