কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে পুলিশের গুলিতে খোরশেদ আলম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানির ছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের দাবি অপহরণের খবর পেয়ে তারা খোরশেদকে রক্ষা করতে গেলে গাড়ি থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। ওই গুলিতে খোরশেদ মারা যান। খোরশেদ টেকনাফ সদর ইউনিয়ন মিঠাপানির ছড়া এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকা থেকে মাদক মামলাসহ ১১টি মামলার পলাতক আসামি শামসুল আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটক আসামিকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে মিঠাপানির ছড়া এলাকায় পৌঁছলে আসামির সহযোগীরা ব্যারিকেড দেয় এবং শামসুলকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত এবং খোরশেদ আলম নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া শামসুল আলম একজন মাদককারবারি।
তবে নিহত খোরশেদ আলমের ভাই নুরুল আলমের দাবি, তার ভাই শামসুল আলমকে কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে, এমন খবরের ভিত্তিতে ভাইকে রক্ষা করার জন্য তারা ঘটনাস্থলে যান। তখন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর থেকে গুলি চালালে খোরশেদ গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকারিয়া মাহমুদ জানান, রাতে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। তার বুকের বামপাশে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কার গুলিতে খোরশেদ আলমের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার পর পরই রাতে কক্সবাজার পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।









