নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ (মাঝিপাড়া) এলাকায় ছাব্বির আহম্মেদ (১৪) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘট্নায় ওই মাদরাসার শিক্ষক ও সহপাঠীসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগ মাঝিপাড়া এলাকার রওজাতুল উলুম মাদরাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। নিহত মাদরাসা ছাত্র ছাব্বির আহম্মেদ রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে। সে রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাদরাসার শিক্ষক শওকত হোসেন সুমন (২৬), জোবায়ের আহম্মেদ (২৬) ও আব্দুল আজিজ (৪২) ও চার কিশোর সহপাঠীসহ ৭ জন।

পুলিশ জানায়, গত বছরের নবেম্বর থেকে ছাব্বির হোসেন রসুলবাগের রওজাতুল উলুম মাদরাসায় আবাসিকভাবে থেকে পড়ালেখা করতে আসে। ১০ মার্চ ১১টার দিকে মাদরাসার শিক্ষক জোবায়ের নিহতের পরিবারকে জানায় ছাব্বির মাদরাসার ছাদে উঠার সিড়ির পাশে ফাঁকা রডের সাথে গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে স্বজনরা পুলিশে কোন অভিযোগ না দিয়ে মাদরাসা থেকে মরদেহ নিয়ে রূপগঞ্জে নিজ এলাকায় দাফন করেন। কিন্তু দাফনের আগে মরদেহের গোসলের সময় নিহতের শরীরে ঠোটে, মাথার ডানদিকে কপালের উপর আঘাতের চিহ্নসহ গালায় রশির দাগ দেখতে পান। 

পুলিশ আরো জানায়, বৃহস্পতিবার মাদরাসা হতে অজ্ঞাতনামা হুজুর (শিক্ষক) নিহত ছাত্রের পিতার মোবাইলে কল দিয়ে তাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝ-পরামর্শ প্রদানসহ ছেলের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে থানা পুলিশে সংবাদ না দেয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। ওই ফোনের পর নিহতের পিতা ও পরিবারে ছাব্বিরে মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ এটি আত্মহত্যা নয় হত্যাকাণ্ড। ওই ছাত্রের পরিবারের ধারণা ছাব্বিরকে মাদরাসার শিক্ষক অথবা তার সহযোগীরা হত্যা করে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মরদেহ গামছা দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মাদরাসার সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। পরে তারা ছাব্বিরের পরিবারকে খবর দেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি মামলা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি ময়নাতদন্তের পরই নিশ্চিত হয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষক ও চার ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন শিক্ষককে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চার সহপাঠী কিশোর হওয়ায় তাদের আদালতে কিশোর আইনে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।