প্রখর রোদে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় শুকিয়ে গেছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পানির উৎস। ফলে তরমুজ ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না খুলনার চাষীরা। এতে তরমুজ গাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে সেচের পানির সংকট না কাটলে বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হতে পারেন এ জেলার তরমুজচাষীরা।
চাষী ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে খুলনায়। জেলার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, রূপসা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ ফলের চাষ হলেও পানি সংকটে ব্যাহত হতে পারে উৎপাদন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, গত বছর জেলায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ১ লাখ ২০ হাজার টন তরমুজ উৎপাদিত হয়। চলতি বছর প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজের চাষ হয় বলে তিনি জানান।
কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ বলেন, জেলায় অনেক এক ফসলি জমিতে এ বছর প্রথমবারের মতো ড্রাগন, পাকিজা, বিগ ফ্যামিলি, হানি কুইন, বাদশা, ব্ল্যাক মাস্টার, ব্ল্যাকবেবি, কানিয়া ইত্যাদি জাতের তরমুজের চাষ হয়েছে। বেশি হয়েছে ড্রাগন ও পাকিজার চাষ। জেলার উৎপাদিত তরমুজের ৭০-৭৫ শতাংশই চাষ হয় দাকোপ উপজেলায়। গত বছর এ উপজেলায় ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এবার ৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
তরমুজ চাষে ধানের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ হয় বলে জানান দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দাকোপের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ জমির তরমুজগাছ বড় হয়ে গেছে। গাছে ফুল ও গুটি আসা শুরু করেছে। কিছু জমিতে তরমুজ বড় হয়েছে। পানি, সার ও কীটনাশক ছিটানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তবে সেচের পানির তীব্র সংকট রয়েছে। প্রচণ্ড তাপে এবং দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠের ভেতরের খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। অনেকে মাঝারি আকারের গর্ত খুড়ে প্রথমদিকে সেখান থেকে সেচ দিয়েছেন। কিন্তু সে পানির আধারগুলোতেও এখন শুকিয়ে গেছে। অনেক কৃষক দূরের নদী থেকে পাম্প ও পাইপের মাধ্যমে জমিতে পানি দিচ্ছেন।
দাকোপের ছিটিবুনিয়া এলাকার দীপক রায় এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করছেন। তিনি বলেন, গত বছর করোনার কারণে দাম পাননি চাষীরা। এবার সে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু পানির সংকটে জমিতে সেচ দিতে না পারায় তরমুজগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে।
দাকোপ ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের স্বপন জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। কিন্তু ক্ষেতে সেচ দিতে পানি পাচ্ছেন না।
পাশের কাঁকড়াবুনিয়া, কালীতলা খালে পানি নেই। এলাকার প্রায় চার হাজার কৃষক পানি পাচ্ছেন না।
রাসখোলা গ্রামের নিরাপদ রপ্তান জানান, ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন তিনি। লাখ টাকার ওপর খরচ হয়ে গেছে। পানির অভাবে এর মধ্যেই তিনটি জমির তরমুজ গাছ মরে গেছে। অন্যটিতেও গাছ মরা শুরু করেছে।
জেলার বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, রূপসা, পাইকগাছা, কয়রা উপজেলায়ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় এবং কয়েক মাস বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের অভাবে তরমুজগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সেচের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবার। বৃষ্টি না হলে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে তরমুজ ক্ষেতে পানি দেয়ার জন্য কোনো পানি থাকবে না।
তিনি আরো বলেন, বিএডিসিকে ১০২টি খাল খননের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা কিছু খননকাজ শুরু করেছে। স্থানীয় সমস্যার কারণে কিছু খনন করা যাচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সব খাল খনন করা গেলে পানির সমস্যা কমবে।










