কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ীতে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে ভিড়েছে সমুদ্রগামী প্রথম বিদেশী জাহাজ। গতকাল সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে মাতারবাড়ী জেটিতে সরাসরি এসে নোঙর করে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’। জাহাজটিতে এসেছে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জাম। মাতারবাড়ী জেটি নির্মাণ ও স্রোত প্রতিরোধক নির্মাণে পাথরসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে আগেও জাহাজ এসেছে। তবে প্রস্তুত জেটিতে ভেড়ানো হয়নি। এবারই প্রথম জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে বলে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি জানায়।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী (পিঅ্যান্ডডি) মোহা. মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন নিয়মিতভাবেই বিদ্যুৎ প্রকল্পের সরঞ্জাম জেটি দিয়ে খালাস করা হবে।

মাতারবাড়ীতে সাগর থেকে ১৪ কিলোমিটার চ্যানেলে এখনই গভীরতা সাড়ে ১৮ মিটার। তাতে সাধারণ পণ্যবাহী বড় জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী। তবে যে জাহাজটি ভিড়েছে, তা ছোট। এটি লম্বায় ১২০ মিটার। পানির নিচে গভীরতা সাড়ে ৫ মিটার। জাহাজটিতে পণ্য আছে ৭৩৬ টন। এসব পণ্য কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ইস্পাতের নানা কাঠামো।

মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এরই মধ্যে দুটি জেটি নির্মিত হয়েছে। এর অন্য পাশেই গড়ে উঠবে দেশের প্রথম মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। প্রথম জাহাজটি নিরাপদে জেটিতে নোঙর করায় সফলতার এক ধাপ এগিয়ে গেছে।

জাহাজাটি নোঙর করা শেষে সহকারী ক্যাপ্টেন আতাউল হক ছিদ্দিকী জানান, বিশ্বের সঙ্গে মাতারবাড়ীর সংযোগ হওয়ায় আমরা এটাকে মাইলফলক হিসেবে নিয়েছি। ক্রমে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব জাহাজ মালামাল নিয়ে সরাসরি মাতারবাড়ী আসবে। এছাড়া বন্দর চূড়ান্ত হলে বড় আকারে বাণিজ্যিক জাহাজও নোঙর করবে। ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

তিনি আরো বলেন, মাতারবাড়ী এলাকায় বঙ্গোপসাগরে ২৫০ মিটার চওড়া ও ১৮ মিটার গভীর করে খনন করা হয়েছে এ চ্যানেল। অর্থাৎ এ চ্যানেল দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে দ্বিগুণ গভীরতার জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দিয়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ মিটার গভীর ও ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ প্রবেশ করতে পারে।

এদিকে গতকাল জাহাজটি জেটিতে ভেড়ানোর পর পণ্য খালাস শুরু হয়। জাহাজটি থেকে পণ্য খালাসে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান গ্রিন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের কর্ণধার একেএম শামসুজ্জামান রাসেল বলেন, জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পরই পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়। জাহাজের ক্রেন দিয়ে প্রথমে জেটিতে নামানো হয়। এরপর তা প্রকল্পের গুদামে নেয়া হয়।