জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে সৃষ্ট মতভেদ কাটাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। সেই সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আলোচনার ‘রেফারি’ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু একটা বিষয় যোগ করতে চাই—উপদেষ্টা পরিষদ যদি এটা মনে করে যে তাদের আর কোনো দায়িত্ব নেই, তারা কিছুই করবে না, দলগুলোই মিলে করবে, তাহলে এখানে একটা রেফারির অভাব হতে পারে। তো সে জন্য আমি বলছি, আমরাও চেষ্টা করব, উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে বিশেষ করে চিফ অ্যাডভাইজার (প্রধান উপদেষ্টা) এখানে একটা রেফারির ভূমিকা পালন করবেন আগের মতো, এটা আমি আশা করি।’

গতকাল সমমনা আটটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ তাহের এসব কথা বলেন। রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘আমি তো গতকালকেই একটা আলোচনার আহ্বান করেছিলাম দলগুলোর ভেতরে। উপদেষ্টা পরিষদ সে রকম একটি আহ্বানই সব দলের কাছে জানিয়েছে। আমরা এখন দেখতে চাই মেইন স্টেকহোল্ডার, মৌলিকভাবে যেসব দল আছে, তারা এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়। তারাও যদি একইভাবে আমাদের মতো সাড়া দেয়, তাহলে আমরা সবাই বসতে কোনো আপত্তি নেই। বসলেই আমি আশা করি একটা রাস্তা বেরিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ।’

দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণভোট নির্বাচনের আগে বা পরে করে লাভ নেই। সনদটাই মূল বিষয়। সনদের জন্য গণভোট অপরিহার্য। এটি আলাদা হলেই জনমত যাচাই করা যাবে। একসঙ্গে করার ‘‘ষড়যন্ত্র বা কূটকৌশল’’ করা হলে জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটে কারো মনোযোগ থাকবে না।’