খুলনা বিভাগে কভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা আবারো বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে কভিডে আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৪৫ জনের। এর আগে শনিবার বিভাগে ৪০ জনের মৃত্যু ও ৫৩৯ জনের কভিড শনাক্ত হয়েছিল।
গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. জসিম উদ্দিন হাওলাদার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা জেলায়। এছাড়া কুষ্টিয়ায় ১৪ জন, যশোরে ছয়, চুয়াডাঙ্গায় পাঁচ, বাগেরহাটে তিন, সাতক্ষীরা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরে একজন করে মারা গেছে।
তিনি আরো জানান, কভিড সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০টি জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৪২১ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৮৯৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৩ হাজার ৩২৩ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জেলাভিত্তিক কভিডসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় কভিড শনাক্ত হয়েছে ৩৯৪ জনের, যা নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় কভিড শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ২২৫ জনের। মারা গেছে ৫০৬ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ২৭৬ জন।
এদিকে শয্যা সংকটের কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩০ শয্যার ডেডিকেটেড কভিড হাসপাতাল ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে নতুন সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাংক।
গতকাল দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, খুলনায় বতর্মানে তিনটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে কভিড রোগীদের চিকিৎসা চলছে। এ চারটি হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ৪৭৫টি।
এর মধ্যে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ২০০টি, জেনারেল হাসপাতালে ৮০টি, আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ৪৫টি ও বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০টি শয্যা রয়েছে।
যার মধ্যে দুটি সরকারি হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা। এর মধ্যে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে ২০টি এবং শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।
খুলনার ২০০ শয্যা ডেডিকেটেড কভিড হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০৬ জন। যার মধ্যে রেড জোনে ১৪১ জন, ইয়েলো জোনে ২৬, আইসিইউতে ১৯ ও এইচডিইউতে ২০ জন।
২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৭ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৫ জন।









