চা শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা এলেও আজ রোববার সকালে সিলেট ভ্যালির চা বাগানে কোন শ্রমিককে কাজে ফিরতে দেখা যায়নি। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাগানের সহব্যবস্থাপককে মারধরের অভিযোগও আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণার পর গতকাল শনিবার বেঁকে বসেছিলেন সিলেটের চার শ্রমিকদের একাংশ। তারা বৈঠকে ১৪৫ টাকা মজুরি নির্ধারণ মেনে নেননি। বৈঠকে উপস্থিত চা শ্রমিক নেতারাও ভোল পাল্টে আন্দোলনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর ফলে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিলেট ভ্যালির ২৩টি চা বাগানে কোন শ্রমিককে কাজে ফিরতে দেখা যায়নি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের অফিসে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন মজুরি নির্ধারণের পর চা শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও বেঁকে বসেন সাধারণ শ্রমিকরা। তারা কমপক্ষে ২০০ টাকা দৈনিক মজুরি না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে বৈঠকের পর সিলেট মহানগরীর মালনিছড়া, হিলুয়াছড়া ও তারাপুর চা বাগানে শ্রমিকরাও এ সিদ্ধান্তকে বয়কট করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। শত শত চা শ্রমিক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মালনিছড়া বাগানের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এ দিকে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে বিভক্তির প্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার রাতে সিলেট ভ্যালির শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান রাতে জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে রোববার থেকে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন।
বৈঠক শেষে চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু গোয়ালা বলেন, আমাদের মজুরি মাত্র ২৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে আমরা কেউই সন্তুষ্ট না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আশ্বাস দিয়েছেন, ভারত থেকে ফিরে আগামী মাসে আমাদের সাথে বসবেন। আমাদের দাবি দাওয়া শুনবেন তাই আমরা তার প্রতি সম্মান জানিয়ে ধর্মঘট আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, প্রধানমন্ত্র্রী আমাদের দাবি দাওয়া শুনে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
রাজু গোয়ালা শনিবার রাতে বলেছিলেন, সারাদেশের কথা জানি না। তবে আমাদের সিলেট ভ্যালির ২৩ বাগানের শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত করতে সম্মত হয়েছি। রোববার থেকে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
কিন্তু রোববার সকাল থেকে কোন শ্রমিক সকাল সাড়ে ১০ পর্যন্ত কাজে যোগ দেয়নি। রাজু গোয়ালাও ফোন ধরেননি। প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতেও দেখা যায়নি।
জাফলং চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন জানান, রাতে তার বাগানের সহব্যবস্থাপক শামীম আহমদসহ ৭-৮জন কর্মকর্তাকে মারধর করেছে শ্রমিকরা। রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি নিজেও জিম্মি ছিলেন। সকাল ১১টা পর্যন্ত কাজে ফিরেননি শ্রমিকরা।










