হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে খাটিহাতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের একজন হলেন সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের সফী আলীর ছেলে আলামিন (১৯)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি, তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর।

সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের সমর্থনে গতকাল সকাল থেকেই মাঠে ছিলেন সংগঠনটির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতাকর্মীরা। সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে পীরবাড়ি-পৈরতলা এলাকায় হরতাল সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে খাটিহাতা হাইওয়ে থানায় হামলা চালায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। তারা থানায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়েন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে বিক্ষুব্ধরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে শহরের ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন, জেলা পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস, পৌরসভা ভবন-মিলনায়তন, গণগ্রন্থাগারসহ আরো বেশ

কয়েকটি স্থানে ভাংচুর করে ও বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলা চালানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতেও। এতে আহত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন।

এর আগে শনিবারও পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।