খুলনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিন রেকর্ড প্রাণহানির পর এবার বিভাগে শনাক্তের রেকর্ডও ভেঙেছে। বিভাগে এই প্রথম একদিনে পাঁচ হাজার ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৬৫ জনের। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের।
সোমবার বিভাগে সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ওইদিন ১ হাজার ৪৭০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। মঙ্গলবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য জানান।
এদিকে মঙ্গলবার খুলনা প্রধান সড়কের পাশে দোকানগুলো বন্ধ থাকলেও অলিগলির দোকানগুলো খোলা ছিলো। ব্যক্তিগত গাড়ি,মটরসাইকেল নিয়ে অজুহাত আর নানা কৌশলে চলাফেরা করছেন মানুষ।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনায়। এছাড়া কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, যশোরে ছয়জন, মেহেরপুরে তিনজন, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৬৩ হাজার ৮৯৯ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ হাজার ৪৭ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪৯ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৯৭৫ জনের। মারা গেছেন ৩২৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৭০২ জন।
খুলনায় করোনা এত বেশি হওয়ার কারণ কী,জানতে চাইলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশেদা সুলতানা বলেন, করোনা সব জায়গাতেই বেড়েছে সে হিসেবে খুলনাতেও বেড়েছে। তবে মৃত্যুর হার খুলনায় একটু বেশি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। প্রচুর আক্রান্ত মানুষ আছেন, যারা এখনো সচেতনতা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের শরণাপন্ন হচ্ছেন না। আসছেন শেষ মুহূর্তে। এখনো জনগণের সচেতন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটি হলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
এদিকে সারাদেশে চলামান কঠোর লকডাউনের মঙ্গলবার ৬ষ্ঠ দিনে খুলনা নগরে অনেকটা ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কমে যাওয়ায় বেড়েছে মানুষ ও যানবাহন চলাচল।
বেশকিছু অটোরিকশাও চলাচল করতে দেখা যায়। সড়ক-মহাসড়কগুলোর কিছু জায়গায় সকালে যানজট দেখা গেছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় বার হাট-বাজারগুলোতেও বেড়েছে চাপ।
সকাল থেকে অনেক পথচারীকে পায়ে হেঁটেও গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। অনেকের মাস্ক থুতনিতে ঝুলছে ; মাস্কবিহীনও দেখা যায় কাউকে। ফলে মহামারি করোনাভাইরাসের ডেল্টা সংক্রমণ রোধে রাস্তায় মানুষের পদচারণা ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
পুলিশ আটকালেই নানা অজুহাত দিতে শুরু করেন তারা- মাস্ক পকেটে, ফোনে কথা বলছিলাম, মাস্ক মুখ থেকে একটু আগেই পড়ে গেছে ইত্যাদি। এদিকে রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকিংয়ের জন্য ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন অনেকে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বিধিনিষেধ ঢিলেঢালাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে। মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সেনাবাহিনী রয়েছে। তারপরও মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।









