রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প মূল্যে কিনতে পারে সেজন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ডিলারের মাধ্যমে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে। এজন্য কক্সবাজার জেলায় ১৯ জন ডিলারকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে সরকারের নির্দেশনা না মানার কারণে অর্থাৎ টিসিবির পণ্য বিক্রি না করায় ১৮ জন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। পাশাপাশি নতুন করে ১৭ জনের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহেদ ইকবাল।

তিনি বলেন, ডিলাররা কয়েক বছর ধরে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তাদের নোটিসের মাধ্যমে অবগত করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ফলে তত্কালীন জেলা প্রশাসক তাদের লাইসেন্স বাতিলের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ পাঠান। ফলে মন্ত্রণালয় সম্প্রতি লাইসেন্স বাতিল করে জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠায়।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া টিসিবির ডিলাররা হলেন ২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়া শহরের পৌরসভা কুতুবদিয়া পাড়ার ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আতিক উল্লাহ, বিমানবন্দর সড়কের জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. রহিম উদ্দিন বা মেসার্স রহিম ট্রেডার্স, রুমালিয়ারছড়ার আনোয়ার অ্যান্ড ব্রাদার্স, ঈদগাওয়ের হামিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, পেকুয়া নতুন বাহারছড়ার মেসার্স এনএম ট্রেডার্স, চকরিয়ার কাকারার মেসার্স মুছা অ্যান্ড ব্রাদার্স, কোর্ট বিল্ডিং এলাকার মেসার্স এমএন আফসার, একই এলাকার সজিব অ্যান্ড সন্স, কুতুবদিয়া উপজেলার যথাক্রমে মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, লেমশীখালীর মেসার্স বিছমিল্লাহ ট্রেডার্স, দক্ষিণ ধুরুং এলাকার শাহেদ এন্টারপ্রাইজ, রামুর মেসার্স মাস্টার বিল্ডার্স, আমিন বাণিজ্য সংস্থা, জোয়ারিয়ানালার মেসার্স মাহবুবে ইলাহি, মহেশখালীতে গোরকঘাটায় ফরসুন ভ্যারাইটি স্টোর, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, উখিয়ার কালিয়াপাড়ার মেসার্স ইসহাক ট্রেডার্স, ভালুকিয়ায় মেসার্স ইস্কান্দার হোসেন চৌধুরী।

ডিলারদের অবহেলা ও সরকারি নির্দেশনা না মানায় জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের সুফল বঞ্চিত হয় করোনায় আতঙ্কে থাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠী। সরকার ২০০৯ সালের অক্টোবর এবং নভেম্বরে কক্সবাজার জেলায় ১৯ জন ডিলার নিয়োগ প্রদান করে। সে সময় দলীয় নেতাকর্মীদের তদবিরে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা করবে এমন লোককে বিবেচনায় এনে টিসিবির ডিলার নিয়োগ প্রদান করা হয়। করোনা মহামারীতে সরকার দরিদ্র অসহায় মানুষের সুবিধার্থে স্বল্প মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ওই ডিলাররা টিসিবির পণ্য বিক্রি করেননি।

কক্সবাজার ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসেন জানান, টিসিবির পণ্যের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। আমরা শহরের তিনটি পয়েন্টে তা বিক্রি করার জন্য ডিলারদের নির্দেশনা দিয়েছি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, টিসিবির কার্যক্রম খুবই দরকারি একটি কর্মসূচি। যেসব ডিলার টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন না তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সুপারিশকৃতদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে এটি আরো গতিশীল হবে। সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে।