চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন ভ্যালির নেতারা। ফলে টানা ১৯ দিন কর্মবিরতি পালনের পর আগামীকাল রোববার থেকে কাজে ফিরবেন চা শ্রমিকরা। ভ্যালি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সন্তুষজনক সমাধান হওয়ায় উৎসব বিরাজ করছে বাগানগুলোতে।
তবে একাংশের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আগামীকাল রোববার জমায়েত হয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার বিকেল ৪টার পরপরই গণভবনে এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। ১৩ জন বাগানমালিক এ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আহমেদ কায়কাউস এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে সরকারপ্রধান শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন দেশের ১৬৬টি চা বাগানের দেড় লাখের বেশি শ্রমিক। সেদিন থেকে চার দিন পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এরপর ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার পর দফায় দফায় সমাধানের চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা বেকে বসে। তারা সমাধানে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায়। ১৯ আগস্ট রাতে মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার বিষয়ে একটি চুক্তিও হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যান শ্রমিকরা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা পাওয়ার পর বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে উৎসব বিরাজ করছে। চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভ্যালি সভাপতিরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে কিছু বাগানের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, রোববার সকালে জমায়েত হয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।
মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক নমিতা বারিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোঁকা দেয়া হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী যে ১৪৫ টাকা নির্ধারন করে দেননি, আজকের ঘোষণা তার প্রমাণ। আমাদের বিশ্বাস ছিলো প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাদের মজুরি বাড়িয়ে দেবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সন্দোষ প্রকাশ করছি। এবার পঞ্চায়েতের সবাই বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে ফিরবো।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালীর সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মজুরি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এরপর আর কোনো কথা নেই, শ্রমিকরা কাজে ফিরবেই।
অন্যদিকে সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া চা বাগান। এই বাগানের শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চা শ্রমিক ফেডারেশনের সংগঠক অজিত রায়। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতিক্রিয়া আপাতত তারা জানাচ্ছেন না। কাল বেলা ১১টায় পুজা মণ্ডপে সকল বাগান শ্রমিক জমায়েত হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে যে আমরা কাজে ফিরবো, নাকি ফিরবো না। তবে সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেছেন, তারা ওই জমায়েতে যাবেন না।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এন শাহ আলম বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললাম। তিনি যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন তার সবই আমরা মেনে নিয়েছি। আমি সব শ্রমিকের আহ্বান জানাই তারা যেন আগামীকাল থেকে কাজে যোগ দেন।










