নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর ধরে বন্ধ পর্যটন ভিসায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীর যাতায়াত। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী রেল ও বাস পরিষেবা। করোনা সংক্রমণ কমলেও পর্যটনা ভিসা চালু হয়নি। ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এক বছরের ব্যবধানে যাত্রী কমেছে সাড়ে ছয় লাখ। চিকিৎসা, ব্যবসা এবং শিক্ষা ভিসায় সীমিত পরিসরে ভিসা চালু থাকলেও নানা কড়াকড়িতে ভ্রমণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আকাশপথে ভিসা সহজলভ্য হলেও সরকারের তদারকির অভাবে বিমান ভাড়া ছয় গুণ বাড়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে বেনাপোল বন্দরে যাত্রীর যাতায়াত কমায় সরকারের রাজস্ব কমে গেছে। বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক আবদুল জলিল বলেন, ২০২০ সালের তুলনায় ২০০১ সালে দুই দেশের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ যাত্রীর যাতায়াত কমেছে। এতে সরকারের ভ্রমণ খাতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব কমেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চিকিৎসা, ভ্রমণ, ব্যবসা এবং শিক্ষা গ্রহণে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৮-১০ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতেন। যাত্রীসেবা বাড়াতে সরকার খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে বন্ধন রেল ও ঢাকা-কলকাতা, খুলনা-কলকাতা ও ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা রুটে একাধিক মৈত্রী বাস পরিষেবাও চালু করে।
ছয় মাস মেয়াদি চিকিৎসা ভিসা দেয়া হলেও অধিকাংশের কপালে জুটছে একবার প্রবেশের সুযোগ। শর্ত মেনে ভিসা নিলেও নানা অজুহাতে ভ্রমণে বাধা সৃষ্টি করছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন। সড়ক পথে ভিসার আবেদন করলে মিলছে আকাশ পথের ভিসা। বিমানে টিকিটের চাহিদা বাড়ায় সিন্ডিকেট করে ঢাকা-কলকাতা বিমান ভাড়া ৫ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
সরকার পক্ষের কোনো তদারকি না থাকায় জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এ অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও, এত খরচের কারণে তারা যেতে পারছেন না। এতে বর্তমানে যাত্রী যাতায়াত কমে দাঁড়িয়েছে দিনে ৩০০-৫০০ জনের মধ্যে। যেহেতু করোনা সংক্রমণ কমে এসেছে, সেহেতু ভিসা ব্যবস্থা সহজ ও যাত্রী সেবায় বাস ও রেল পুনরায় চালু হলে উপকৃত হবেন বলে জানান যাত্রীরা।
টিকিটের বাড়তি দামে ভোগান্তিতে পড়া পাসপোর্টধারী যাত্রী আকরাম হোসেন জানান, যেহেতু করোনা সংক্রমণ কমে এসেছে, ভিসা পাওয়া সহজ করে, রেল ও বাস সেবা আবারও চালু হলে, আমাদের জন্য অনেক সাশ্রয়ী হয়।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ব্যবসার জন্য মাঝেমধ্যে ভারতে যেতে হয়। কিন্তু এখনো ভিসা সহজ না হওয়ায়, নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
ভারতে ভ্রমণের সব শর্ত মেনে ভারত যাওয়ার জন্য এসেছেন জানিয়ে ভারতগামী যাত্রী আকাশ বলেন, ভারতীয় ইমিগ্রেশন নানা কারণ দেখিয়ে ঢুকতে দেয়নি।
করোনার কারণে এখনো ভারত-বাংলাদেশে মধ্যে যাত্রীবাহী রেলসেবা বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করে বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, যাত্রীরা রেলসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই চালু হবে।
এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি মো. রাজু জানান, বৃহস্পতিবার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে গেছে মাত্র ৪৬০ জন বাংলাদেশী। এসেছে ২২৪ জন ভারতীয় নাগরিক। বর্তমানে পর্যটন ভিসা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসা এবং ব্যবসা ভিসায় কিছু যাত্রী যাতায়াত করলেও, ভারতীয় ইমিগ্রেশন শিক্ষা ভিসায় অনেককেই ফেরত দিচ্ছে।









