জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বর্তমান রাজস্ব কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে আগামী বাজেটেই ‘সবুজ রাজস্ব নীতি’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বিদ্যমান কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি বেশি সুবিধা পাচ্ছে, যা একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হচ্ছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও বাধা সৃষ্টি করছে।
আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে রাজস্ব বৈষম্য: জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আধুনিক বাজেট কাঠামো থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। যদিও দেশের অর্থনীতি বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত আমদানির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হল ধীরে ধীরে সবুজ রাজস্ব কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে বর্তমান করকাঠামোয় এর উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় জ্বালানি থেকে রাজস্ব আয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমপরিমাণ কর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর আরোপ করা হলে সরকার বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি থেকে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারত। যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর মোট করের হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সেখানে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশের জ্বালানি খাত ঐতিহাসিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এ খাতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পক্ষের কায়েমি স্বার্থ রয়েছে। তাদের শক্তিশালী লবিং ও চাপের কারণে দেশের জ্বালানিভিত্তিক রাজস্ব কাঠামোটি ক্রমান্বয়ে একপেশে হয়ে পড়েছে। আগামী বাজেটে ‘সবুজ রাজস্ব নীতি’ ঘোষণা প্রয়োজন।
জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় সৌরবিদ্যুতে যন্ত্রপাতি ওপর এখনো কর বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুতের কিছু উপাদানের ওপর শুল্ক কমিয়েছে। এটি ইতিবাচক হলেও এর সহায়ক অবকাঠামোর ওপর এখনো উচ্চ শুল্ক বহাল রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও গ্রিড লাইনের যন্ত্রপাতির ওপর চড়া কর চাপানো রয়েছে। এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুবিধা পাচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে রাখা হয়েছে নিম্ন শুল্কহার।
সিপিডি মনে করে, এ বৈষম্যমূলক করকাঠামোর কারণে দেশের অর্থনীতি দ্বিমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রথমত, বিশেষ ছাড়ের কারণে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ করের কারণে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কাঙ্ক্ষিত প্রসার ঘটছে না। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এতে আরো ছিলেন সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত, গবেষণা সহযোগী আতিকুজ্জামান সাজিদসহ অন্যান্যরা।










