মাসখানেক ধরে সারা দেশে যানবাহন চলাচল বন্ধ। করোনাভাইরাস হটস্পট নারায়ণগঞ্জকে গত ৮ এপ্রিল সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করায় মানুষের বিকল্প পেশা খুঁজে নেয়ার পথও বন্ধ। এই দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা গণপরিবহণ শ্রমিকরা এবার লকডাউন ভেঙে রাস্তা নেমে পড়েছেন। তারা বলছেন, ত্রাণ দিতে হবে নয়তো গাড়ি চলতে দিতে হবে।

আজ বুধবার সকালে ‘ত্রাণ দাও, নইলে গাড়ি চালু করো’ এই দাবিতে নারায়ণগঞ্জে শত শত গণপরিবহন শ্রমিক ঢাকা-টট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করেন। এ সময় মহাসড়কে ট্রাক-বাস এলোমেলোভাবে রেখে শ্রমিকরা মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে যায়। বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও এর আশপাশের এলাকায় বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

গণপরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ৮ এপ্রিল থেকে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই দীর্ঘদিন খাদ্য সংকটে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। ত্রাণ দেয়ার কথা বলে গত এক সপ্তাহ আগে ভোটার আইডি কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেই ত্রাণ এসে পৌঁছয়নি। বাধ্য হয়েই সড়কে নেমেছেন তারা।

শ্রমিকদের দাবি, যদি তাদের ত্রাণ দেয়া না হয় তবে, তাদেরকে গণপরিবহন চালু করার অনুমতি দেয়া হোক।

পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করে বুঝিয়ে আশ্বাস দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ত্রাণের দাবিতে গণপরিবহন শ্রমিকেরা সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছিল। তারা দাবি করছে, কোনো রকম ত্রাণ পায়নি। তাই তারা কাজ চায়। গণপরিবহন চালু করার দাবি তুলেছে। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।