ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তের পর এবার কক্সবাজারে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ চলছে। সংঘর্ষের ভীতিকর শব্দ ও গোলাগুলি ছিটকে পড়ার আতঙ্কের মধ্যেই এখন দিনাতিপাত করছে সীমান্তবাসী।
এতদিন শুধু তুমব্রু সীমান্তে আতঙ্ক থাকলেও এখন তা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী, ধামনখালী রহমতেরবিল ও আঞ্জুমানপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সকালে আঞ্জুমানপাড়া ও বিকালে রহমতেরবিল সীমান্তে মিয়ানমারের ওপার থেকে মর্টার শেলের গোলাবর্ষণ ও ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছে।
বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক পাহারায় রয়েছে। বাহিনীটির পক্ষ থেকে স্থানীয় জেলে, কৃষক ও রাখালদের গরু-মহিষ নিয়ে সীমান্তের কাছে না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।
পালংখালী আঞ্জুমান সীমান্তের বাসিন্দা গফুর আলম প্রতিদিন মহিষ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় যান। তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। আজ (গতকাল) সকালে আঞ্জুমান সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে চলা গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছে।
সীমান্তের ধারে ধান চাষ করেন কৃষক ছৈয়দ হোসেন। তিনি বলেন, সীমান্তের কাছে যেতে এখন ভয় লাগে। কিছুদিন ধরে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ভয়ভীতির মধ্য দিয়েই এখন চাষবাস করতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৮ আগস্ট বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু উত্তর মসজিদের কাছে মিয়ানমার থেকে দুটি মর্টার শেল এসে পড়ে। গত শুক্রবার রাতে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে পালংখালী সীমান্তে এখনো এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। যদিও স্থানীয়দের মধ্যে এ মুহূর্তে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফয়েজুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির কাছ দিয়ে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার উড়েছে। সকাল-বিকাল ভেসে আসছে গুলির আওয়াজ। গোলাগুলির শব্দে শিশুরা নির্ঘুম ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে রাত কাটাচ্ছে। এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে শঙ্কায় থাকা সীমান্তবর্তী শতাধিক ঘরের একটি তালিকা করা হয়েছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এসব বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী।
এ বিষয়ে বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










