সাবেক সিইসি কেএম নূরুল হুদাকে হেনস্তা করার ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএনপি। গতকাল বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খানের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, ‘আমরা মব কালচারে বিশ্বাস করি না। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আমরা চাই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের রায় বাস্তবায়ন হবে, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে।’

সাবেক সিইসির বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সালাহউদ্দিন জানান, তার গ্রেফতার এবং বিচার প্রক্রিয়া আইনগত ও যথাযথভাবে পরিচালিত হবে, এটা তারা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, ‘তবে তার ওপর যে অবমাননাকর ব্যবহার করা হয়েছে এটা আমরা সমর্থন করি না। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন (শৃঙ্খলাবিরোধী ব্যবস্থা) আমরা নেব। এটা আমাদের (বিএনপি) অবস্থান।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কোনো ব্যক্তি যত বড় অপরাধীই হোন না কেন, তার আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার যেন ভোগ করার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।’

নূরুল হুদার সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বিনষ্ট করার জন্য যে কজন ব্যক্তি দায়ী তার মধ্যে নূরুল হুদা অন্যতম।’

জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন করার অভিযোগে বিএনপির করা মামলার আসামি হওয়ার ৬ ঘণ্টা পর কিছু লোক রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উত্তরার বাসা থেকে আটক করে সাবেক সিইসি নূরুল হুদাকে। তারা বাসায় ঢুকে তাকে অপদস্থ করে। এ সময় কথিত জনতার মধ্যে থাকা কেউ কেউ ফেসবুকে লাইভও করে। এমন একটি লাইভে দেখা যায় নূরুল হুদার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। তার গেঞ্জির কলার ধরে রেখে বক্তব্য দিতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। এ সময় ওই ব্যক্তির পাশে পুলিশের পোশাক পরা একজনকে দেখা যায়। পরে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।