চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বাতিল ও বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ দুই দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী সোমবার কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর ভবনের আন্দোলনরত শ্রমিকদের ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর এ ঘোষণা দেয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে তারা আগামী দুই দিন আন্দোলন স্থগিত রাখবেন। তবে যদি এই সময়ের মধ্যে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো (চেয়ারম্যানের অপসারণ ও ইজারা বাতিল) পূরণ না হয়, তবে তারা ফের ২৪ ঘণ্টার কঠোর কর্মসূচিসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে নামবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। এ দুই দিনের মধ্যে আমাদের দাবি না মানা হলে আগামী সোমবার থেকে কর্মসূচি আরও কঠোর হবে। আমরা সভায় স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি তুলে দেওয়া যাবে না। আর বন্দর চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে। আমাদের সহকর্মীদের আহ্বান করেছি এ দুই দিনে আরও বেশি সংগঠিত হওয়ার প্রস্তুতির বিষয়ে। এনসিটির বিষয়ে বন্দর কর্মী-শ্রমিকরা কোনো কমপ্রোমাইজই করবে না।’

অন্যদিকে বৈঠক শেষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে এনসিটি নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর নৌপরিবহন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এনসিটির চুক্তি হবেই। এটা ঠেকানো যাবে না। কিন্তু চুক্তিটা কোন লেভেলে হবে, সেটা নিয়ে কথা বলেছি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এখনো নেগোশিয়েশন চলছে। আমি বন্দর কর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছি। এতেও যদি তারা আশ্বস্ত না হয় এবং বন্দরের কার্যক্রমে বাধা দেয়, তাহলে আমরা হার্ড লাইনে যেতে বাধ্য হব। ১৮ কোটি লোককে জিম্মি রাখা যাবে না। আমাদের দ্বিতীয় কোনো বন্দরও নেই, যেখানে আমদানি-রফতানির চাপ সামাল দেয়া যাবে।’