জনগণের অভিপ্রায় ও গণদাবিকে উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা দিয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রধান উপদেষ্টার এ ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে দলটি। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ওপর গতকাল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‌প্রধান উপদেষ্টা জনগণের অভিপ্রায় ও গণদাবিকে উপেক্ষা করে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, এতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। জনগণের অভিপ্রায় ছিল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও নির্বাচনের আগে কী কী বিষয়ে সংস্কার হলো, সংবিধানের কী কী সংশোধনে যাচ্ছে। যে ৪৮টি বিষয়ে আমরা সম্মত হয়েছি, এগুলো জাতিকে জানাতে হবে। ভোটাররা জানবেন এবং তার ভিত্তিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে “হ্যাঁ” কিংবা “না” মতামত দেবেন। কিন্তু এখন একই দিনে তাকে (ভোটার) ওই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং একটি প্রতীকে ভোটও দিতে হবে। এটি একটি সংকট তৈরি করবে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘‌আমরা বারবার অনুরোধ করেছি, যুক্তি দিয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রত্যেক নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে। দুই-পাঁচটা কেন্দ্রে গোলাগুলির কারণে ভোট বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যেতে পারে। এমন ঘটনায় জাতীয় নির্বাচনের প্রতীকের ভোট বন্ধ হয়ে গেল, গণভোটের দশাটা কী হবে, এর কোনো জবাব নেই। এই যে সাড়ে ১২ কোটি ভোটার কী কী বিষয়ে হ্যাঁ-না বলবে সে বিষয়ে জাতিকে নির্বাচনের আগে জানতে হবে এবং স্টাডি করতে হবে। অথচ সে সুযোগ না দিয়ে, একই দিনে ভোটারকে দুটো ভোট দিতে গিয়ে একটি সংকটে ফেলা দেয়া হলো।’

এ সংকট নিরসনের জন্যই জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি করছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গণভোট হলে সনদের আইনি ভিত্তি দৃঢ় হবে। পরে আইনি ভিত্তি নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না। সেই সংকট এখনো রয়ে গেছে।’ সরকারকে এ সংকট নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রমুখ।