ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার এক গ্রামে অবৈধভাবে বাওড় ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করেছেন মৎস্যজীবীরা।

আজ শনিবার সকালে উপজেলার কুসুমপুর গ্রামে এক মানববন্ধন থেকে এই প্রতিবাদ জানান বাওড়পাড়ের বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হন মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা। কুসুমপুর, স্বরূপপুর, পিপুলবাড়িয়া, চুয়াডাঙ্গার বেনীপুর ও ধান্যখোলা গ্রামের ১১৫টি পরিবারের কয়েক’শ সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর বাওড়টি আর্ন্তজাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও সরকারের মাধ্যমে ৫০ বছরের মধ্যে চুক্তি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বাওড়টিতে গত ৩০ বছর ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ৫টি গ্রামের মৎস্য শিকারীরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

তারা বলেন, ২০১৪ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় বাওড়টি লিজ দেওয়ার জন্য একটি নির্দেশনা জারি করে। ওই সময় মৎস্যজীবীরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে তারা নিজেদের পক্ষে রায় পায়। এরপর থেকে তারা বাওড়টি ভোগ করে আসছে। গত বছর আবারো একই নির্দেশনা জারি করলে মৎস্যজীবীরা রিট করে আবারো পক্ষে রায় পায়। কিন্তু হঠাৎ করেই চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ৫০ বছরের ওই চুক্তি অগ্রাহ্য করে খাস আদায়ে একটি সমিতিকে এক মাসের জন্য দ্বায়িত্ব দেয়। এরপর থেকেই বাওড়ে মাছ ধরতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন ১১৫টি পরিবার।

মৎস্যজীবী মজিবর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বাওড়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু আমাদের মুখের খাবার জেলা প্রশাসন কেড়ে নিয়েছে। বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে পুলিশ আমাদের হয়রানি করছে।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বেনীপুর বাওর ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক পুর্ণ চন্দ্র হালদার বলেন, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাওড়টি মৎস্যজীবীদের কাছে হস্তান্তর করার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম বলেন, যারা মানববন্ধন করছে তারা অন্যায় করছে। সরকার রাজস্ব আদায় করছে তারা সরকারের কাজে বাঁধা দিচ্ছে। ইফাদের সঙ্গে যে চুক্তি ছিল তা অনেক আগেই হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে বলে দাবি এই সরকারি কর্মকর্তার।