নারায়ণগঞ্জে আরো এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। তিনি ঢাকার বাসিন্দা এবং মানিকগঞ্জের তাবলীগ জামাত থেকে ফিরে গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় মেয়ের বাড়িতে আসেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতে আইইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আজ রোববার দুপুরে রিপোর্টে পজেটিভ আসে।
এ খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী, ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু ঘটনাস্থলে যান। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ হ্যান্ডমাইকে স্বপ্নানীড় নামের ওই বাড়ির লোকজনকে সতর্ক করে দেন। ইউএনও বাড়ির আটটি পরিবারসহ আশপাশের আরো দুইশ পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করেন।
ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়িটিসহ মোট ২০৮ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউনে থাকা এই পরিবারগুলোর খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপজেলা প্রশাসন সরবরাহ করবে। এছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে বাড়িটির আট পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিন করা হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু ও নতুন করে আরো পাচঁজন আক্রান্ত হওয়া ঘটনায় ১২শ পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৯শ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ জন। এর মধ্যে দুই জন মারা গেছেন, চিকিৎসাধীন ৫ জন। বাকি চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হোম কোয়ারেন্টিনে ৫৪০ জন রয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন চিকিৎসক। নারায়নগঞ্জ জেলা থেকে অন্যত্র যাতায়াতের সব যোগাযোগ আজ বিকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাশীপর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুচিন্তানগর এলাকার এক বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে রাতে সদর ইউএনও ওই এলাকার ৩শ পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করেন। নারায়ণগঞ্জে প্রথম ৩০ মার্চ করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রসুলবাগ এলাকার পুতুল (৫০) নামের এক নারী।









