মিয়ানমার থেকে ছোড়া প্রতিটি গুলির হিসাব বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সীমান্ত বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, মর্টারশেল নিক্ষেপ, আকাশসীমা অতিক্রমসহ প্রতিটি ঘটনায় তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ (মিয়ানমারকে) জানানো হয়েছে। তারা কূটনীতিকভাবে উত্তরও পাঠিয়েছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে গতকাল ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজুপাড়ার বিজিবি চৌকিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

মেজর জেনারেল সাকিল বলেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে চেষ্টা করা হচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপির সঙ্গে পতাকা বৈঠক করার। এ বিষয়ে যোগাযোগও হয়েছে। শিগগিরিই ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সবকিছু সরাসরি উপস্থাপন করা হবে।

বান্দরবানের ঘুমধুম এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দুই মাসেরও বেশি সময় দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। সীমানা পেরিয়ে ওপারের ছোড়া মর্টারশেল ছাড়াও গোলাবারুদ আর হেলিকপ্টার অনেকবার এপারে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।

বিজিবি প্রধান বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি। তাদের নির্দেশ দিয়েছি, কেউ যেন শূন্যরেখা অতিক্রম করে কাঁটাতারের ওপারে না যান। এখন হয়তো সবসময় সব জায়গায় নজরদারি করা যাবে না। আমরা চেষ্টা করি বাংলাদেশী লোকজন যেন সবসময় ওপারে না যায়। তার পরও মাইন বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা ঘটলেও আমরা কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদলিপি পাঠাই।

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে পাহারা জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছি। মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। মিয়ানমার সীমান্তে সাময়িক কিছু সমস্যা হয়েছে। মিয়ানমারের কোনো নাগরিককে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সীমান্তে আগের তুলনায় জনবল বাড়িয়ে পাহারা জোরদার করা হয়েছে।