আদালতের আদেশের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আবার রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এ বিষয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘জামায়াতের নিবন্ধন ও প্রতীক পুনর্বহাল করা হয়েছে। দলটির এখন আর নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, এক যুগ পর ১ জুন তা বাতিল করে দেন আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালত তার আদেশে বলেছিলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখন নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীকের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
আদালতের আদেশের পর জামায়াতের নিবন্ধন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফেরত দেয়ার বিষয়ে ৪ জুন কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। সভা শেষে ওইদিন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফেরত পাবে। তবে দলীয় প্রতীকটি ফেরতের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে।
কমিশন সভায় সিদ্ধান্তের তিন সপ্তাহের মাথায় গতকাল প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। এর মাধ্যমে নিবন্ধন ফিরে পাওয়া জামায়াতে ইসলামী আবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পেল।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৫০টি। আর সংসদের জন্য ৬৯টি দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক রয়েছে। তবে ইসির সংরক্ষিত তালিকায় জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নেই। সেক্ষেত্রে বিধিমালায় সংশোধন এনে প্রতীকটি যুক্ত করতে হবে।
জানা যায়, ইসি সচিবালয় থেকে নতুন কিছু প্রতীকসহ সব মিলিয়ে ১১৫টি প্রস্তাব রয়েছে। কমিশন পযালোচনা করে শিগগিরই প্রতীক চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সেখানে যুক্ত হবে। আরো নতুন প্রতীক যুক্ত করে সংশোধনী জারি করা হবে শিগগিরই।’
নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের কোনো কৃতিত্ব নেই। আমাদের এ লড়াইয়ে সাংবাদিক, আইনজীবীসহ যারা যুক্ত ছিলেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’










