একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ বুধবার (২৮ মে) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি মুক্তি পান। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রাখেন। পরে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই মামলা থেকে খালাস চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন করেন এই জামায়াত নেতা।
ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল জামায়াতে ইসলামীর এ নেতাকে খালাস করে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তার করা আবেদনটি মঞ্জুর করে গতকাল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দেন আদালত। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় এই প্রথম কেউ পুনর্বিবেচনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিলে খালাস পেলেন।
রায়ে চারটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলামের করা আপিল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। সব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। আগের দুই রায় বাতিল করে বর্তমান আপিল বিভাগ বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অতীতের বিচারে আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। যেসব তথ্যপ্রমাণ এ মামলায় ছিল, তা অতীতের আপিল বিভাগ সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০১২ সালের ২২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগে তার বিচার হয়েছিল। জামায়াতের এ নেতার বিরুদ্ধে ছিল উত্তরে রংপুর অঞ্চলে এক হাজারের বেশি মানুষকে হত্যার অভিযোগ। একই সঙ্গে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগও ছিল।










