দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি একটি সুপরিচিত নাম। ‘মিটিং দ্য চ্যালেঞ্জ অব টাইম’ স্লোগানকে উপজীব্য করে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে ২০০২ সালে। এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে যুগোপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের পাশাপাশি কর্মমুখী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আসছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোলাবোরেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশ দিতে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের জন্য অন ক্যাম্পাস জবের ব্যবস্থা রেখেছে। এখানে একাডেমিক ও প্রশাসনিক অফিসগুলোয় শিক্ষার্থীরা পার্ট টাইম, ফুল টাইম জবের পাশাপাশি ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়ে থাকেন। কেউ কেউ ইন্টার্নশিপ শেষ করে এখানেই কর্মজীবন শুরু করেছেন।

সাইয়েদ নূর মোহাম্মদ রায়হান সাউথইস্ট অ্যাডমিশন অফিসে পার্ট টাইমার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘অ্যাডমিশন অফিসে কাজ করতে গিয়ে আমি ভর্তি হতে আসা নতুন মুখগুলোকে দেখি। ওদের দেখে আমার শুরুর দিনের কথা মনে পড়ে। এখানে কাজের দারুণ পরিবেশ পাই। সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাচ্ছি এখানে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি অফিসে টেকনিক্যাল লিড হিসেবে কর্মরত আছেন আসাদুজ্জামান নূর। ২০১৭ সালে তিনি আইটি অফিসে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তার টিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী কাজ করছেন। এদের একজন কাজী শাহরিয়ার রাফিদ, যিনি সিএসই ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসেবে সাউথইস্ট আইটি টিমে কর্মরত। তিনি শুরুতে এ টিমে পার্ট টাইমার হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ হলে তিনি জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে যোগদান করেন। এ বছর পদোন্নতি পেয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হয়েছেন। তার মতে, অন ক্যাম্পাস জবের যে সুযোগ সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি রেখেছে তা শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে সহায়তা করছে। নিজের ক্যাম্পাসের সবকিছুই চেনাজানা। বলতে গেলে এখানেই বেড়ে ওঠা। তাই নিজের ক্যাম্পাসে চাকরি শুরু করতে পারাটা নিঃসন্দেহে দারুণ স্বস্তির।

এ টিমেই ইন্টার্ন হিসেবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে যোগ দেন মো. মোস্তাকিম মাহী। তিনি বলেন, ‘‌সাউথইস্ট আইটি অফিসের কর্মকাণ্ড ব্যাপক। তাই অনেক কিছু শেখার আছে এখানে। তাছাড়া এখানে আমাদের সিনিয়র বড় ভাইদের কাছ থেকে আন্তরিক পরিবেশে শেখার সুযোগ পাচ্ছি, যা কর্মক্ষেত্রে আমার জন্য দারুণ সহায়ক হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির আইটি পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইঞ্জিনিয়ার মো. রাকিব হাসান জানান, নতুন কোনো কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলেই আইটি অফিসের পছন্দের তালিকায় অগ্রাধিকার পায় সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আমাদের সফটওয়্যার টিমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি আইটি অফিস প্রতি সেমিস্টারেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ দিচ্ছে।

শুধু আইটি বা অ্যাডমিশন নয়, ব্র্যান্ডিং, কমিউনিকেশন ও পাবলিক রিলেশন্স অফিস, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিস, লাইব্রেরি, এক্সাম অফিস, বিসিপিআরসহ বিভাগীয় অফিসগুলোয়ও শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ রাখা হয়েছে। সিনিয়র শিক্ষকরা বিভিন্ন ধরনের গবেষণা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। এসব গবেষক শিক্ষকদের সহকারী হিসেবে শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা অনুযায়ী সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক সেক্টরে সীমিত পরিসরে পার্ট টাইম অথবা ফুল টাইম কাজের সুযোগ রেখেছি। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, আবার একই সঙ্গে দক্ষতাও অর্জন করে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পাথেয় হতে পারে।’