তিনদিন বন্ধ থাকার পর আজ দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হচ্ছে। বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন চলবে। এক্ষেত্রে দেশব্যাপী যেসব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাবে সেখানে ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকার আজ ও আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করেছে। এর মধ্যে বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস কার্যক্রম চলবে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের লেনদেনও চলবে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজ ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে।’

সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট চালু, কারফিউ শিথিল ও অফিস খোলার ঘোষণা আসার পরই আজ লেনদেন চালুর বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। বেলা ১১টা থেকে যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে লেনদেন চালু রাখা সম্ভব হয় সেজন্য এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃস্থাপনের পর তারা সবকিছু ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সেটি যাচাই করে দেখবেন। পাশাপাশি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সঙ্গেও লেনদেনের কারিগরি বিভিন্ন দিক দিয়ে কাজ করছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লেনদেন শুরুর আগে আমাদের বেশকিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত ও কারিগরি প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। আজ সকাল থেকেও আমাদের বেশকিছু কাজ করতে হবে। আশা করছি বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে লেনদেন করা সম্ভব হবে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতিও আছে। ইন্টারনেট সংযোগের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি ব্রোকারেজ হাউজে এসে কিংবা মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেনে অংশ নিতে পারবেন।’

দেশব্যাপী সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত শুক্রবার রাতে কারফিউ জারি করে সরকার। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে গত তিনদিন পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ থাকে। পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু রাখার বিষয়টি বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। প্রথমত, ব্যাংকিং লেনদেন চালু না থাকলে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু রাখা যায় না। কারণ ব্যাংকের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অর্থ সেটলমেন্ট করতে হয়। স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজসহ পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারফিউ কিংবা সংঘাতময় কোনো পরিস্থিতির কারণে অত্যাবশ্যকীয় এসব কর্মী অফিসে উপস্থিত থাকতে না পারলে লেনদেন চালু রাখা দুরূহ হয়ে ওঠে। তাছাড়া লেনদেন চালু রাখার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ সচল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দিন ইন্টারনেট পরিষেবা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি দেশব্যাপী কারফিউ বলবৎ থাকার কারণে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

দেশব্যাপী সংঘাত ও অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও। গত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন ছিল নিম্নমুখী। যদিও এর আগের কয়েক সপ্তাহ কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতায় ছিল পুঁজিবাজার।