করোনা পরিস্থিতিতেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ৯ পাটকল। আগামীকাল বুধবার থেকে কারখানাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা জোনের সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা। এজন্য কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।  করোনা সংক্রমণ রোধে সকাল থেকেই প্রতিটি কারখানা প্রবেশমুখে থাকবে স্ক্যানিং ব্যবস্থা। এ পরীক্ষায় সফল হলেই মিলবে প্রবেশ টোকেন। যাদের জ্বর, সর্দি কাশি বা এ জাতীয় কোন সমস্যা ধরা পড়বে তাদের টোকেন দেয়া হবে না। টোকেন ছাড়া কারখানায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। 

এর আগে সরকারের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের জন্য বস্তা সরবরাহের জরুরি প্রয়োজনে গত ২৬ এপ্রিল খুলনা অঞ্চলের ৮টি জুট মিল আংশিক চালু করা হয়। করোনা প্রভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে পাটকলগুলো বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা জোনের সমন্বয়কারী মো. বনিজ উদ্দিন মিঞা জানান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখেই বুধবার সকাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে পাটকল চালু হচ্ছে। সব কারখানায় থাকছে স্ক্যানিং থার্মোমিটার।

এদিকে কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া ১৪ সপ্তাহের মজুরির মধ্যে ৪ সপ্তাহের মজুরি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শ্রমিকরাও নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, একদিকে করোনা আতঙ্ক, অন্যদিকে রমজান। ফলে চরম আর্থিক সমস্যায় দিন কাটছে তাদের। এমন সময় কারখানা চালুর ঘোষণা আশার আলো দেখছেন তারা।

খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর, আলীম, দৌলতপুর, ইস্টার্ন এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলে করোনা সংক্রমণ রোধে যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েই শ্রমিকদের কাজে যোগদানের অনুমতি মিলবে। মিলগুলো চালুর মধ্য দিয়ে আবারও কর্ম চাঞ্চল্যতা ফিরে পাবে খুলনা শিল্পাঞ্চল।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান খান মো. কামরুল ইসলাম জানান, তার মিলের প্রধান দুটি ফটক দিয়ে শ্রমিকরা প্রবেশ করে। এ দুটো প্রবেশ পথে স্ক্যানিং থার্মোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে সেখান থেকে সুন্দর একটি টোকেন দেয়া হবে।