বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসী নারীদের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক অংশীজনের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে এ পরামর্শ সভার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী নারীদের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা, বিশেষত তারা অভিবাসনের তিনটি পর্যায়ে (প্রাক-অভিবাসন, অভিবাসনকালীন, এবং অভিবাসন-পরবর্তী) যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা। আলোচনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ, আইনি সুরক্ষার অভাব এবং পুনরুদ্ধার সেবার সীমিত সুযোগ কীভাবে তাদের স্থিতিস্থাপকতাকে প্রভাবিত করে তা অন্বেষণ করা হবে।

এ পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন) ড. মো. নুরুজ্জামান ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আক্তার।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে যেসব নারী এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার অভিবাসী হচ্ছেন তারা কোন ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের জন্য কোন ধরনের সেবার ব্যবস্থা থাকলে তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি পাবেন সে সকল বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে শ্রমিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, আরএমজি নিয়ে এখন খুব বেশি কাজের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে আইএলও কনভেনশনের ১৭৭, ১৮৯ এবং ১৯০ ধারা রেটিফাইয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। তিনি বেলজিং কমিউনিটি নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ প্রকৃত রেফারেন্স দেয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
কল্যাণপুর পোড়াবস্তি নিবাসী শিউলি অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের দুর্দশার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সে একটি ছোট চায়ের দোকান চালায়। প্রায়ই তার দোকান ভেঙে দেয়া হয়। চাঁদা দিতে না পরলে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তার দাবি কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া যাতে তার নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।
গৃহকর্মী বেবী আক্তার তার বক্তব্যে সুপারিশ করেন তারা যাতে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করে জীবন-জীবিকা চালাতে পারেন এবং গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধের বিষয়টি সামনে আনা হয়।
বিশেষ অতিথি শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আক্তার বলেন, শ্রম আইনের ভাষা বেশ জটিল। এ আইনকে যেন আরো সহজতর এবং বোধগম্য করা হয়। আইনে শ্রমিকের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়ার ওপর তিনি গুরুত্মারোপ করেন। তিনি জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে শ্রম সংস্কার কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর মধ্যে সকলের দাবি উপস্থাপন করতে হবে যাতে সুপারিশের সঙ্গে যোগ করা যায়। শ্রমিকদের বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে যোগ করার জন্য তিনি আহবান জানান। একই সঙ্গে শোভন কাজের সঙ্গে নারী শ্রমিকদের মর্যাদার বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার সুপারিশ করেন।
বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, গ্রাম থেকে যারা দূর্যোগ বা অন্য কারণে মাইগ্রেশন হয়ে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় কাজের জন্য আসছে। তাদের থাকার জন্য ডরমেটরির ব্যবস্থা নেয়া এবং তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য ওই এলাকায় স্কুলের ব্যবস্থা রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দেন। তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে দেয়া সেবার পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করেণ। শ্রমিকের প্রাপ্ত মজুরি এবং তার দরকারের মধ্যে যে গ্যাপ আছে তা খুঁজে বের করে গ্যাপের জায়গাতে যাতে সরকারকে সহযোগিতা করার পরমর্শ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রকে গবেষণার ক্ষেত্রে যেসব সুপারিশ এসেছে তার একটি মেট্রিক্স করার পরামর্শ দেন। যেখানে গবেষণার উদ্দেশ্য, সুপারিশ, সহযোগিতা, রিসোর্স এবং সময়কাল উল্লেখ থাকবে। একই সেঙ্গে তিনি বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের এ গবেষণার সঙ্গে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে তার বক্তব্য শেষ করেন।
এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন) ড. মো. নুরুজ্জামান, পিসিআই প্রতিনিধি আনিকা আজহার, অক্সফাম প্রতিনিধি শাহাজাদী বেগম, আইওএম প্রতিনিধি আরিফ রাব্বানী, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রমুখ। —বিজ্ঞপ্তি










