নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে আটা-ময়দার বাজারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে গমের সরবরাহ বৃদ্ধি দাম কমার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে দাম কমলেও তা ক্রেতাদের জন্য অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে এখনো আটা-ময়দার বাণিজ্যে মন্দাভাব বিরাজ করছে।
এক মাসের ব্যবধানে (৫০ কেজির বস্তা) ১৫০-২০০ টাকা কমেছে আটা-ময়দার দাম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে ভালো মানের আটা বিক্রি হচ্ছে (৫০ কেজির বস্তা) ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে, যা এক মাস আগেও ছিল ২ হাজার ৮৫০ টাকা দরে। সে হিসাবে দাম কমেছে ১৫০ টাকা। আর কেজিতে কমেছে ৩ টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৫৭ টাকা।
ভালো মানের ময়দা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে (৫০ কেজির বস্তা) ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে, যা এক মাস আগে ছিল ৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ২০০ টাকা। কেজিপ্রতি ময়দা বেচাকেনা হচ্ছে ৫৬ টাকা দরে, যা কিছুদিন আগে ছিল ৬০ টাকা কেজি। সে হিসাবে কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৪ টাকা।
বাজারে ইউক্রেনের লাল গম বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৮৮০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল মণপ্রতি ২ হাজার টাকা দরে। কানাডার গম বেচাকেনা হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ৯৮০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা, যা আগে ছিল ২ হাজার ১০০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ১০০-১৫০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাজারে গমের দাম দু-তিন গুণ বেড়ে যায়। গমের দাম বাড়ায় বাড়তে শুরু করে আটা-ময়দারও। পরবর্তী সময়ে দেশ দুটির মধ্যে চুক্তি ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে আটা-ময়দার দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
নিতাইগঞ্জে ইয়াকুব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বেনজির আহমেদ জানান, এক মাসের ব্যবধানে আটা-ময়দার দাম কমলেও তা সাধারণের সাধ্যের বাইরে। বাজারে গম সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আরো কমে যাবে।
আটা-ময়দার ব্যবসায়ী মামুন হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ থেকে দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলায় আগে আটা-ময়দা সরবরাহ করা হতো। কিন্তু করোনামহামারী, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা, ডলার সংকট নিতাইগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে। বড় মিলগুলো আটা-ময়দা উৎপাদন ও বিপণন করায় নিতাইগঞ্জের ছোট মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এ কারণে অনেক মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
আটা-ময়দার ব্যবসায়ী সামসুল হক বলেন, এক মাসের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি দাম কমেছে ১৫০-২০০ টাকা। পাইকারি বাজারে আটা বেচাকেনা হচ্ছে ৫৪ টাকা কেজি আর ময়দা ৫৬ টাকা। দাম কমলেও এটি সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি। এ কারণে বিক্রি কম।









