গত সপ্তাহের পুরোটাজুড়েই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থির সময় পার করেছে পুঁজিবাজার। এ সময়ে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও ছিল নিম্নমুখী। গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ শতাংশের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৪২ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে পাওয়ার গ্রিড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ৩০৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির দর। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২ হাজার ২২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। গত সপ্তাহে ডিএসইতে টেলিযোগাযোগ, ব্যাংক এবং ওষুধ ও রসায়ন ছাড়া বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯০ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৫৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৭৫৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক গত সপ্তাহ শেষে ১১৪ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৩৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯ হাজার ৪৮৫ পয়েন্ট।










