তামার বৈশ্বিক বিগলন কার্যক্রম গত মাসেও কমেছে। এ নিয়ে টানা দুই মাস মন্দার মুখে এ খাত। দুর্বল চাহিদা, অর্থনৈতিক মন্দা, রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে বিগলন কমছে। খবর রয়টার্স।
পণ্যবাজার ব্রোকার ম্যারেক্স জানায়, উত্তর আমেরিকার দেশগুলো ছাড়া বিশ্বের অন্য সব দেশে বিগলন কার্যক্রম কমেছে। জ্বালানি ও পরিবহনের ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়, ধাতব পণ্যের দাম কমে যাওয়া, সুদের হার বৃদ্ধিসহ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভ কমে গিয়েছে। এ কারণে তামা বিগলন করছে না।
এদিকে বিগলন কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমছে। এতে চলতি বছর বড় আকারের ঘাটতির পথে হাঁটছে তামার বৈশ্বিক বাজার। তবে আগামী বছর ধাতুটির বাজারে লক্ষণীয় উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় বাজারজুড়ে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম যেমন কমছে, তেমনি চাহিদাও নিম্নমুখী। কিন্তু একই পরিস্থিতির কারণে ধাতুটির উত্তোলন গতি হারাচ্ছে। ফলে গত বছর যে পরিমাণ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী বছর এ ঘাটতি কেটে যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ জানায়, চলতি বছর বিশ্ববাজারে ৩ লাখ ২৫ হাজার টন তামার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের (এলএমই) গুদামগুলোয় আবারো কমতে শুরু করেছে তামার মজুদ। আটদিন ধরেই মজুদ নিম্নমুখী। চীন ধাতুটি ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ায় মজুদে টান পড়েছে। এটি বৈশ্বিক ঘাটতির পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির নিট তামা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। তবে আগামী বছর ঘাটতির পরিবর্তে বিশ্ববাজারে ১ লাখ ৫৫ হাজার টনের উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে।
বৈশ্বিক তামা উত্তোলনের বড় একটি অংশই আসে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে। কিন্তু এসব দেশের খনিগুলোয় শ্রমিকদের মাঝে নানা অভিযোগে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। এছাড়া স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে বিগলন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাজার সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে তামার বৈশ্বিক বাজার সরবরাহে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ ঘাটতির তীব্রতা ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে শিল্প খাতটির সম্প্রসারণক্ষমতার ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি স্থানান্তরজনিত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ধাতুটির চাহিদা এ সময়ের মধ্যে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টনে উন্নীত করতে পারে।










