নারায়ণগঞ্জে আরেক দফা বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশ দুটি থেকে গম না আসায় এবং দেশীয় বাজারের গম সিন্ডিকেট বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারণে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গমের দাম মণপ্রতি বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। আর আটা-ময়দার দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় ২৫০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণ সাগর হয়ে খাদ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ইউক্রেন থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে জাহাজ যাচ্ছে তুরস্ক-মিসরসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে। দক্ষিণ এশিয়ায় কোনো জাহাজ এখনো আসেনি। ফলে আমাদের ভারত থেকে গম আমদানি করে চলতে হচ্ছে। তাদের দাবি বাংলাদেশে যে পরিমাণ গম প্রবেশ করেছে, তাতে করে সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু গম ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফার লোভের কারণে তারা দাম বাড়িয়ে দিয়ে গম বিক্রি করছে। যে কারণে বাজারে আটা-ময়দার দাম অস্থির হয়ে উঠেছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে গম বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৫৮০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে, যা এক মাস আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে। সে হিসেবে এক মাসে পাইকারিতে গমের দাম বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। বাজারে ভালো মানের আটা (৫০ কেজির বস্তা) বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা। মানের দিক থেকে কিছুটা নিম্নমানের আটা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা বস্তা। আরো একটু নিম্নমানের আটা বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকা বস্তা, যা এক মাস আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১ হাজার ৯০০ টাকায়। পাইকারিতে এর কেজিপ্রতি দাম দাঁড়ায় ৪৬-৪৮ টাকা। ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা বস্তা। সে হিসেবে আটার বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০-২৫০ টাকা।

নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দার ব্যবসায়ী বেনজীর আহমেদ জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত তুলে দেশে গম আমদানিকারকরা বাজারে গমের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কারণে নিতাইগঞ্জে বেশির ভাগ আটা-ময়দার মিল এক শিফট বা ২-৩ ঘণ্টার বেশি চলে না। তিনি বলেন, বড় বড় মিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এমনিতেই ছোট মিলগুলোর টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। তার ওপর গমের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় অনেক বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মূলত আমদানিকারকরা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যে কারণে দফায় দফায় আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। বেচাকেনায় মন্দা নেমে এসেছে।

গম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন মৃধা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এ দুটি দেশের গম আমাদের দেশে আসছে না। বেশ কয়েক মাস আগে ভারত গম রফতানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। যে কারণে বাজারে একটি অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। পরে সরকারের মধ্যস্থতায় ভারত থেকে গম আমদানি চালু হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইউক্রেনের লাল গমের। কিন্তু যুদ্ধের কারণে সেই গম আসতে পারছে না।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তি অনুযায়ী কৃষ্ণ সাগর দিয়ে খাদ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলে আমাদের দেশে সেই গম আসতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। ভারত থেকে আগে যে রেটে গম আমদানি করা হতো এখন অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে আমাদের দেশে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বেশি দামে গম কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।